Image description

এক ব্যক্তির স্ত্রীকে তার বাবা তালাক ছাড়াই অন্য এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। ওই দম্পতি ২৩ বছর একসঙ্গে সংসার করার পর দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর নারীটি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আসতে চান। প্রথম বিয়ের কাগজপত্রও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর পুনরায় একসঙ্গে থাকার সুযোগ আছে কি না?

সম্প্রতি এ বিষয়ে জবাব দিয়েছেন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুরের ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম। 

প্রশ্নে এক ব্যক্তি জানান, তার স্ত্রীকে তালাক না করিয়েই স্ত্রীর বাবা জোর করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি ২৩ বছর পর মারা গেছেন। এখন নারীটি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আশ্রয় চাইছেন। প্রথম বিয়ের সব কাগজপত্রও রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের আবার একসঙ্গে থাকার সুযোগ আছে কি না?

এর জবাবে নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কোনো নারী এক স্বামীর বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় তালাক বা শরিয়তসম্মতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে হলেও তা সহিহ হবে না। সে ক্ষেত্রে নারী প্রথম স্বামীর স্ত্রী হিসেবেই বহাল থাকবেন।

 

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়। আয়াতের অর্থে বলা হয়েছে, অন্যের বিবাহবন্ধনে থাকা নারীরা বিবাহের জন্য নিষিদ্ধ।

ফতোয়াটিতে আরও বলা হয়, প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা সত্য হলে এবং প্রথম স্বামী কখনো তালাক না দিয়ে থাকলে, দ্বিতীয় বিয়ে শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ হয়নি। ফলে দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে ২৩ বছর স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাসও বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক হিসেবে গণ্য হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করার কথা বলা হয়েছে।

ফতোয়া আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রথম স্বামী কখনো তালাক দেননি এবং প্রথম বিবাহ শরিয়তসম্মতভাবে বহাল ছিল, তাহলে প্রথম স্বামী-স্ত্রীর বিবাহও বহাল থাকবে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে বিয়ের প্রয়োজন হবে না।

ফতোয়ার উত্তরে ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’র কিতাবুন নিকাহ, বিবাহের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের আলোচনার উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে। সেখানে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করা বৈধ নয় বলে উল্লেখ রয়েছে।