দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের ফের সাত দিনের রিমান্ড চাইছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নতুন এ আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালতে এর শুনানি হবে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। এতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং বাদীর শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ২১ সেপ্টেম্বর মাকসুদার এক দিন ও স্বামী গাজী নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর দিয়েছিলেন। এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার ভবনে একটি ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে থাকা শুরু করেন নজরুল।
সেই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে পাওয়া গিয়েছিল কিছু চিরকুট, যেখানে নজরুলকে দায়ী করে নানা কথা লেখা ছিল। ওই লেখাগুলো মরিয়মের বলে পুলিশের ধারণা।
মরিয়মের বাবার অভিযোগ, আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী।