Image description

ভেনিস, টরন্টো থেকে লন্ডন, বিশ্বের বিখ্যাত সব চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিচ্ছে রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। সিনেমাটির বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। এর মধ্যে আবার যুক্ত হয়েছেন ‘গুলশানের চামেলী’তে। দুই সিনেমা আর সাম্প্রতিক নানা প্রসঙ্গ নিয়ে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ইব্রাহীম জাহিদ।

ঢাকা পোস্ট: ভেনিস ও টরন্টোর পর লন্ডন উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ জায়গা করে নিয়েছে; এ খবরে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

আজমেরী হক বাঁধন: অবশ্যই ভীষণ ভালো লাগছে। এত বড় ও মানসম্মত একটি কাজের অংশ হতে পেরেছি; এরকম একটা কাজের ছোট একটা অংশ আমি হতে পেরেছি, এজন্য খুবই আনন্দিত এবং গর্বিত যে কাজটা এত এত ভালো ভালো জায়গায় যাচ্ছে।

ঢাকা পোস্ট: সিনেমাটিতে আপনার অভিনীত চরিত্রটি কেমন?

আজমেরী হক বাঁধন: আমি একটা অতিথি চরিত্র করেছি। যেটাকে বলে গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। খুব অল্প সময়ের স্ক্রিন টাইম। আমি একটি পার্লারের ওনার (মালিক) হিসেবে এখানে অভিনয় করেছি।

পুরুষদের মধ্যেও যারা আছেন, যারা নারীকেন্দ্রিক গল্প চিন্তা করেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। আমি ভবিষ্যতে ডিরেক্টর ও প্রডিউসার লেভেলে আরো অনেক মেয়েকে দেখতে চাই।

ঢাকা পোস্ট: একের পর এক বিখ্যাত উৎসবে জায়গা করে নিচ্ছে সিনেমাটি। আপনার দৃষ্টিতে এর মূল শক্তি কিসে? 

আজমেরী হক বাঁধন: প্রথমত, গল্পটা ভীষণ ভালো। ডিরেকশন খুবই ভালো। ডিরেক্টর ও রাইটার একজনই রুবাইয়াত হোসেন। সে অসাধারণ একটা কাজ করেছে। আর সাথে যারা ছিলেন, তারাও অসাধারণ অভিনয় করেছেন। স্পেশালি যে মেয়েটি মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে, জাইনীন চৌধুরী করিম, সে অসাধারণ অভিনয় করেছে। 

ঢাকা পোস্ট : ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এ আপনার অভিজ্ঞতা কেমন হলো? 

আজমেরী হক বাঁধন : খুবই ভালো অভিজ্ঞতা! একটা অসাধারণ সেটে কাজ করেছি, যেখানে বেশিরভাগ ডিপার্টমেন্টের হেডই হচ্ছেন মেয়ে। বেশিরভাগই মেয়ে, এইরকম একটা সেট তো আমরা চাই। তারপর, যেভাবে আসলে সেটে আর্টিস্টদের সম্মান করা হয়েছে, তাদেরকে টেক কেয়ার করা হয়েছে, সেটা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। রুবাইয়াত ভীষণ ভালো ডিরেক্টর তো অবশ্যই, সে ভীষণ ভালো একজন মানুষও।

ঢাকা পোস্ট: নারীপ্রধান বা নারীকেন্দ্রিক চরিত্র নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে যদি কিছু বলতেন?

আজমেরী হক বাঁধন: এটা নিয়ে তো আমি আসলে অনেকদিন ধরেই কথা বলছি; আমাদের এখানে নারীপ্রধান গল্পগুলো খুব কম হয়। তবে এখন কিছু পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। আমি দেখছি যে, অনেকেই আসলে নারীকেন্দ্রিক গল্পের দিকে এগিয়ে আসছে। আর রুবাইয়াত এই কাজটা অনেক বছর থেকে করছে। তো এরকম যেসব নারী ডিরেক্টর আছেন, তাদের কাছে আমি গ্রেটফুল, তারা আসলে এভাবে চিন্তা করেছেন। আর পুরুষদের মধ্যেও যারা আছেন, যারা নারীকেন্দ্রিক গল্প চিন্তা করেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ। আমি ভবিষ্যতে ডিরেক্টর ও প্রডিউসার লেভেলে আরো অনেক মেয়েকে দেখতে চাই।

ঢাকা পোস্ট: এবার ‘গুলশানের চামেলী’ প্রসঙ্গে আসি। মহরত তো হলো, শুটিং কবে?

আজমেরী হক বাঁধন: ডিসেম্বরেই শুটিং শুরু হবে।

ঢাকা পোস্ট: এই সিনেমায় আপনাকে কেমন ভূমিকায় পাওয়া যাবে এবং গল্পটি কেমন হবে?

আজমেরী হক বাঁধন: আমি একজন আইনজীবী হিসেবে অভিনয় করব এখানে। গল্পটি তথাকথিত গল্পের চেয়ে আলাদা। সেটার জন্যই আমি কাজটা পছন্দ করেছি এবং করতে রাজি হয়েছি। আর যেহেতু অন্যান্য যেসব কো-অ্যাক্টর আছেন, তারাও ভীষণ প্রভাবশালী শিল্পী; আশা করছি ভালো একটা কাজ হবে।

ঢাকা পোস্ট: অভিনয়ে নতুন আর কী করছেন?

আজমেরী হক বাঁধন: আরও দুটো কাজের কথা হচ্ছে। সময় হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।

ঢাকা পোস্ট: সাম্প্রতিক সময়ে আপনার একটি ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা হচ্ছে, এ বিষয়ে কী বলবেন?

আজমেরী হক বাঁধন: আমি একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, গেট-টুগেদার ছিল। সেখানে যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে আমি ছবি তুলেছি, ছবি পোস্ট করেছি, ব্যাস এটুকুই। আসলে আলোচনা তো আমার সব কথা নিয়েই হয়। তাই এটা নিয়ে আলাদা করে কথা বলার আমার কোনো দরকার নেই।