Image description

ভালো করে খাওয়ার পর অনেকেই একটু বিশ্রাম নিতে চান। কেউ সোফায় বসে পড়েন, আবার কেউ সরাসরি কাজে ফিরে যান। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের পরের কয়েক মিনিট স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের পর মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হজমে সহায়তা করতে পারে।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, খাবারের পর অল্প সময় হাঁটলে শরীর খাবার আরও ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। এতে বিপাকীয় স্বাস্থ্যও ভালো থাকতে পারে।

খাবারের পর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে

খাবার খাওয়ার পর শরীর কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ডা. শেঠির মতে, খাবারের পর অল্প সময় হাঁটলে গ্লুকোজ দ্রুত রক্তে মিশতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে ইনসুলিনের চাহিদাও কমতে পারে।

‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও দেখা গেছে, খাবারের পর হালকা হাঁটাহাঁটি রক্তে খাবার-পরবর্তী গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন প্রতিরোধের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর উপকার পাওয়া যেতে পারে।

হজমে সহায়তা করে

ডা. শেঠি বলেন, হালকা শরীরচর্চা পরিপাকতন্ত্র ও ভেগাস নার্ভকে সক্রিয় করে। এতে খাবার পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে। তাঁর মতে, এতে পাকস্থলী থেকে খাবার দ্রুত পরিপাকতন্ত্রের পরবর্তী অংশে যেতে পারে এবং হজমে ধীরগতির সমস্যা কমতে পারে।

পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে পারে

খাওয়ার পর অনেকের পেট ভারী বা অস্বস্তিকর লাগে। কারও কারও পেট ফাঁপার সমস্যাও হয়। এ ক্ষেত্রে অল্প সময় ধীরে হাঁটা উপকারী হতে পারে।

ডা. শেঠির মতে, খাবারের পর হাঁটলে অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল বাড়তে পারে। এতে পেটে গ্যাস আটকে থাকার প্রবণতা কমতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর পেট ভারী লাগে বা পেট ফাঁপার সমস্যা হয়—এমন ব্যক্তিদের জন্য হালকা হাঁটাহাঁটি উপকারী হতে পারে।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমাতে পারে

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অনেক সময় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ডা. শেঠি বলেন, ধীরে হাঁটলে খাবার পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে থাকে। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সংস্পর্শ কমতে পারে এবং বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের প্রবণতাও কমতে পারে।

ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে

হাঁটার সময় শরীরের পেশিগুলো শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। ডা. শেঠির মতে, এতে পেশিগুলো ইনসুলিনের ওপর কম নির্ভর করে রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে। নিয়মিত এমন অভ্যাস করলে সময়ের সঙ্গে শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে।

কতক্ষণ হাঁটবেন?

ডা. শেঠির মতে, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার কিংবা দিনের সবচেয়ে বড় খাবার খাওয়ার পর ১০ থেকে ১২ মিনিট হাঁটা ভালো। এ সময় ধীরে থেকে মাঝারি গতিতে হাঁটতে পারেন।

ডায়াবেটিসে খাবারের দিকেও নজর

খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। তবে শুধু হাঁটলেই হবে না, কী খাচ্ছেন সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পুষ্টিবিদ রূপালি দত্তের মতে, ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন প্রতিরোধের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের সুষম খাবারের অংশ হিসেবে পূর্ণ শস্য, ডাল, সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি, বাদাম ও বীজ রাখা উচিত।

পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিনের রুটিনে খাবারের পর ১০ থেকে ১২ মিনিট হালকা হাঁটার অভ্যাস যোগ করা যেতে পারে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি হজম ও সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।