Image description

শ্লীলতাহানির মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে হাজিরা দিতে রওনা দিয়েছিলেন বাদী চিত্রনায়িকা পরীমনি। তবে যানজটে রবিবার তিনি নির্দিষ্ট সময়ের আদালতে এসে পৌঁছাতে পারেননি। পরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া তাকে জেরার জন্য আগামী ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। তবে নির্ধারিত সময় শেষে ঢাকার আদালতে চত্ত্বরে আসেন পরীমনি। তিনি জানালেন, আমি চাই জেরা দ্রুত শেষ হয়ে যাক। এটা আমার জন্য অনেক হ্যাসেল।

সন্তানের কথা উল্লেখ করে বললেন, ‘দুদিন আগে আমার মেয়ের ভ্যাকসিন দিয়েছি। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর যা হয় আর কি। ঠিক মতো রেস্ট হয়নি আমার। রাতে ঘুম না হওয়া, বাচ্চাদের সময় দেয়া; সবকিছু ম্যানেজ করে আদালতের এইটা মানসিক চাপ হয়ে যায়। এটা আমার জন্য একটা হ্যাসেল।’

বিচার চেয়ে তিনি বললেন, পাঁচটা বছর হয়ে গেছে তো। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটার সুরাহা হোক, একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আল্লাহর কাছে দোয়া করি খুব তাড়াতাড়ি এটা শেষ হয়ে যাক।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বলেছেন, ‘এই মামলায় দুপুর ১২ টায় শুনানির জন্য সময় নেয়া হয়েছিল। তবে যানজটে আটকে নির্দিষ্ট সময়ে পরীমনি আদালতে আসতে পারেননি৷ আদালতে হাজিরা দিয়ে দুই আসামি চলে যান। আরেক আসামি শহীদুল আলম সময় চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত জেরার জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।’

মামলার আসামি হলেন, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন আদালতে নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২২ সালের ১৮ মে তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। একই বছরের ২৯ নভেম্বর পরীমনির আংশিক জবানবন্দির মধ্যে দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

২০২৩ সালের ২৪ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দিতে ইতস্ততাবোধ করেন পরীমনি। তার আইনজীবী ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় পরীমনির জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।