Image description

বন্ধ হয়ে গেল রংপুরের একমাত্র নিয়মিত সিনেমা হল শাপলা টকিজ। দীর্ঘদিনের লোকসানের কারণে শুক্রবার থেকে বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। ফলে বিভাগীয় শহরটিতে আর কোনো সিনেমা হল থাকলো না। শনিবার দুপুরে সিনেমা হল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল ব্যবস্থাপক শাহাবুদ্দিন।

রংপুরের প্রথম হল ছিল মডার্ন হল। সেটি বন্ধ হওয়ার পর রংপুরে একে একে গড়ে ওঠে শাপলা টকিজ, দরদী হল, ওরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী টকিজ, নূর মহল, চায়না টকিজ, সেনাহলসহ মোট ১০টি সিনেমা হল। এর আগেই বাকি সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এবার সর্বশেষ সিনেমা হল শাপলা টকিজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে রংপুর সিনেমা হল শূন্য হয়ে গেল।

 প্রযুক্তির উৎকর্ষতার  কারণে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়া এবং ব্যাবসায়িক মন্দার কারণে একে একে সব হল বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ শুক্রবার বন্ধ হলো একসময়ের সুনামের সঙ্গে বিনোদন বিলানো শাপলা টকিজ। এর মধ্য দিয়ে রংপুরে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত শেষ সিনেমা হলটিরও পর্দা নেমে গেল আনুষ্ঠানিকভাবে।

হল মালিক সূত্রে জানা যায়, মাসুম মিয়া সুস্থ বিনোদনের জন্য শাপলা টকিজ নামে এই হল নির্মাণ করেন। ১৯৭৮ সালের ১৬ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহে আলম হলটির উদ্বোধন করেন। হলটির প্রতিষ্ঠাতা মারা যাওয়ার পরে মন্টু মিয়া হল পরিচালনার দায়িত্ব নেন। কিন্তু ধীরে ধীরে দর্শক কমে যাওয়ায় এবং লোকসানের কারণে তিনি হল ভাড়া দেন। হলটি ভাড়া নেন চলচ্চিত্র প্রযোজক কামাল হোসেন।

লোকসান ঠেকাতে চুক্তি ভঙ্গ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এতে হল মালিকের পরিবারের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা হলটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।

হল মালিক পক্ষের প্রতিনিধি সাইদুর রহমান সুমন বলেছেন, হলটি ভাড়ায় পরিচালিত হলে অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠে। এটি আমরা মেনে নিতে পারিনি। ফলে রংপুর চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং গতকাল শুক্রবার থেকে হলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কামাল হোসেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।