বলিউডের 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'খ্যাত অভিনেতা আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় মধুচন্দ্রিমায় আছেন। এদিকে 'লাভ জেহাদ' অভিযোগে আমির খানের ওপর ক্ষুব্ধ গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা নীতেশ রানের পর এবার শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাতের নিশানায় মিস্টার পারফেকশনিস্ট।
আমির খানের তৃতীয় বিয়ে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমসহ রাজনৈতিকমহলে তোলপাড়। একের পর এক হিন্দু নারীর সঙ্গে কেন বৈবাহিক সম্পর্ক অভিনেতার? মিস্টার পারফেকশনিস্টের বিরুদ্ধে ‘লাভ জেহাদ’-এর অভিযোগ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানের প্রশ্ন, ‘আমির লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর?’ নীতেশের পর এবার শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাতের নিশানায় মিস্টার পারফেকশনিস্ট। সঞ্জয়ের দাবি, ‘আমির লাভ জেহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠতেই পারেন। কিন্তু ভক্তের হৃদয়ে বাস করতে পারবেন না।’
এ শিবসেনা নেতা বলেন, একজন জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তার অনুরাগীদের ওপর প্রভাব ফেলে। আমির একজন সফল অভিনেতা। বারংবার বিয়ের মাধ্যমে তিনি তার ভক্তদের কাছে কী বার্তা দিচ্ছেন, তা প্রশ্নের বিষয়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে নীতেশের মতকে সমর্থন করে সঞ্জয় বলেন, নীতেশ রানে ঠিকই বলেছেন— মানুষ একজন অভিনেতাকে অনুসরণ করে। কারণ তাকে বড় তারকা বলে মনে করে।
আমিরের তিনটি বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একবার নয়, দুবার নয়; তিনবার বিয়ে! মানুষ তার কাছ থেকে কী শিক্ষা পাচ্ছেন? তিনি লাভ জিহাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারবেন না।
নীতেশ রানে বা সঞ্জয় শিরসাতের এহেন মন্তব্যে আমির খানের ব্যক্তিগতজীবন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না। সম্প্রতি বিহারের ফোরবেসগঞ্জ এলাকায় এক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বজরং দল। পোড়ানো হয় আমিরের কুশপুতুলও। ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করার হুমকিও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট হিন্দু সংগঠন। তবে এখন পর্যন্ত অভিনেতার তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তের সঙ্গে প্রথমবার বিবাহবন্ধনে অবদ্ধ হয়েছিলেন অভিনেতা আমির খান। বিচ্ছেদের পর পরিচালক কিরণ রাওয়ের সঙ্গে তার দ্বিতীয় দাম্পত্য। এরপর ষাটোর্ধ্ব আমির গৌরী স্প্র্যাটের মধ্যেই শান্তি খুঁজে পেয়েছেন। গত ৫ জুলাই ঘরোয়া পরিবেশে ‘স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট’-এ ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা পড়ে আমির।