এই ক’টা দিন যেন কাটছে রিমঝিম আলস্যে। মনে পড়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন—এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে। সেই মেঘ দিন-রাত থেমে থেমে নেমে আসে শহর থেকে গ্রামে, পাহাড় থেকে অট্টালিকার ছাদে। চোখ বুজেও টের পাওয়া যায়, সময় এখন ভরা বাদলের। ভেজা বারান্দায় চায়ের সঙ্গে কাটছিল বৃহস্পতির বিকেল। একটু দূরের পথে লাল-নীল-হলুদ নানা রঙের গাড়ি। হলুদ গাড়ি দেখে মনে পড়ল হলুদ ট্যাক্সির শহর কলকাতার কথা। সেখানে রয়েছেন জয়া আহসান। উপলক্ষ্য—নতুন ছবির মুক্তি ও প্রচারণা।
কৌশিক গাঙ্গুলির ছবি ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। মুক্তি শুক্রবার, ১০ জুলাই। ২০২৩ সালের সফল ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’র দ্বিতীয় কিস্তি এটি। চেনা চরিত্রগুলো ফিরছে অচেনা মোড় নিয়ে। কিছুদিন ধরে প্রচারে তাই বৃষ্টি-ঘামে ভিজছেন নির্মাতা-শিল্পীরা।
হ্যাঁ, এপারের মতো বৃষ্টি ওপারেও। কাকভেজা শহরে ছুটতে গিয়ে ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে জয়া-চূর্ণীদেরও। বিপত্তিও বাঁধল তাতে। ঠাণ্ডা লেগেছে জয়ার। আপাতত তাই ওষুধকে সঙ্গী করে দায়িত্ব সামলে নেয়ার চেষ্টা।

অসুস্থতার সঙ্গে মন খারাপও আছে বৈকি! কারণ? প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলল নির্মাতা কৌশিকের বার্তায়। জানালেন, দর্শকের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত হল পাচ্ছেন না। জয়ার কাছ থেকে আরেকটু খোলাসা হওয়া গেল। বললেন, ‘হল লিস্ট এখনো (৯ জুলাই, মুক্তির আগের দিন বিকাল অব্দি) দেয়নি। এ সপ্তাহে হিন্দি ছবিও মুক্তি পাচ্ছে। সে কারণেই এমন জটিলতা। হিন্দি ছবি এলেই এখানে এরকম পরিস্থিতি হয়। বিষয়টা নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন, বলছেনও। দেখা যাক।’
দর্শক ভীষণ আগ্রহী। অস্থির হয়ে আছে ছবিটা দেখার জন্য। আগেরটা সবাই পছন্দ করেছিল, আর এবার ট্রেলারটা দেখার পর মনে হচ্ছে সবার আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে।
যখন কথা হচ্ছিল, জয়া গাড়িতে। একটি প্রচারণা অনুষ্ঠান সেরে ছুটছেন অন্যত্র। এদিক-ওদিক এমন ছুটোছুটির ফাঁকে টের পাচ্ছেন দর্শকের আগ্রহ? ‘দর্শক ভীষণ আগ্রহী। অস্থির হয়ে আছে ছবিটা দেখার জন্য। আগেরটা সবাই পছন্দ করেছিল, আর এবার ট্রেলারটা দেখার পর মনে হচ্ছে সবার আগ্রহ আরো বেড়ে গেছে। তো, যেসব হলে চূড়ান্ত হয়েছে, সেগুলোতে অলরেডি সবগুলো শো হাউজফুল হয়ে গেছে। হলের পুরো তালিকা এলে তবেই তো দর্শক টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে। মুক্তির এক দিন আগেও এই অনিশ্চয়তা মুশকিলেরই বটে’-উত্তর দিলেন জয়া।
তিন বছর পর ‘অর্ধাঙ্গিনী’দের ফেরা। হাঁড়ির খবর তো আর জানতে চাওয়া চলে না। কিন্তু হাঁড়িতে নতুন রসদ কী, সেটুকু নিশ্চয়ই বলা যায়? রহস্য জিইয়ে কিংবা আরেকটু বাড়িয়েই উত্তরটা দিলেন ‘দেবী’ অভিনেত্রী, ‘একটাই কথা বলতে পারি, এবার ডোজটা একটু কড়া।’

তবে তাই হোক। কথার ওপর কথার সিঁড়ি ধরে এগোনো যাক। বললে অত্যুক্তি হবে না, নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলির ছবি দিয়েই ওপার বাংলায় অনন্য অবস্থান গড়ে নিয়েছেন জয়া। তার ‘বিসর্জন’, ‘বিজয়া’ কিংবা ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিগুলো জয়াকে নিয়ে গেছে মুগ্ধতার শিখরে। এ নির্মাতাকে যদি জয়া খানিকটা ব্যাখ্যা করেন; উত্তর দিলেন এভাবে, ‘তিনি (কৌশিক গাঙ্গুলি) অত্যন্ত গুণী নির্মাতা ও অভিনেতা। পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও অনন্য। আমার মনে হয়, চিত্রনাট্যে সম্পর্ক বিল্ডআপের ক্ষেত্রে পিএইচডির ওপরেও যদি কোনো ডিগ্রি থাকে, সেটার অধিকারী কৌশিক দা। তো, আমরা বেশ আনন্দেই ছবিটার শুটিং করেছি। তিন বছর পর মেঘনা (ছবিতে জয়ার চরিত্র) এখন এই শহরের মানুষ হয়ে উঠেছে, যেমনটা বাস্তবে আমিও হয়েছি। তো, মেঘনার সেই পরিবর্তিত জীবনের সূক্ষ্ম কিছু দিক তুলে ধরেছেন নির্মাতা।’
তিনি (কৌশিক গাঙ্গুলি) অত্যন্ত গুণী নির্মাতা ও অভিনেতা। পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও অনন্য। আমার মনে হয়, চিত্রনাট্যে সম্পর্ক বিল্ডআপের ক্ষেত্রে পিএইচডির ওপরেও যদি কোনো ডিগ্রি থাকে, সেটার অধিকারী কৌশিক দা।
বলতে বলতে ‘ভয়ংকর’ এক কথাও বলে ফেললেন জয়া। তাতে ছবিটি নিয়ে কৌতূহলের পারদ এক লাফে আকাশ ছুঁতে পারে। জয়ার ভাষ্য, ‘ছবিতে কিছু জটিল ও স্পর্শকাতর মোড় আছে; আমি চাই, আমার কোনো শত্রুও যেন এরকম পরিস্থিতিতে না পড়ে।’
‘অর্ধাঙ্গিনী’র দুই পর্বেই জয়ার বিপরীত চরিত্রে আছেন চূর্ণী গাঙ্গুলি। তারা সুমনের (কৌশিক সেন) বর্তমান ও প্রাক্তন স্ত্রী। তাদের ব্যতিক্রম সমীকরণই প্রথম পর্বকে করেছিল শক্তিশালী। সেই চূর্ণী গাঙ্গুলিকে নিয়ে জয়ার মন্তব্য এমন, ‘চূর্ণী দি অভিনয়ে অসাধারণ বটেই, তবে তিনি দুর্দান্ত একজন নির্মাতা। উনার সঙ্গে অভিনয় করতে পারাটাও বড় ব্যাপার। খুব ইনটেন্স ইমোশন নিয়ে ছবিটা, ফলে অভিনয়েও আমাদের দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। ইনফ্যাক্ট একটু আগেও আমি চূর্ণী দি’র সঙ্গে ছিলাম, একটি প্রমোশনাল অনুষ্ঠানে।’

জয়ার গাড়ি চলছিল, কথার গাড়ি তাই বেশিদূর আগানো সমীচীন নয়। তবু শেষমেশ গৎবাঁধা প্রশ্ন দিয়েই শেষটা করতে হয়। নতুন কী করছেন? উত্তরও তো জানা। জয়ার কথায়, ‘কথা তো চলছেই। বলার মতো অবস্থা হয়নি। আর এখন তো কাজের ব্যাপারে আগে থেকে বলা বারণ। সময় হলে নিশ্চয়ই জানাব।’
বলা প্রয়োজন, ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’তে জয়া, চূর্ণী ও কৌশিক সেনের সঙ্গে আরো অভিনয় করেছেন অম্বরিশ ভট্টাচার্য, লিলি চক্রবর্তী, ইন্দ্রাশিস রায়, রায়া ভট্টাচার্য, ডিম্পল আচার্য্য প্রমুখ। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন অনুপম রায়।