মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ মাস আগে অভিনেত্রী তানজিন তিশা, সাফা কবির, টয়া এবং সুনিধির নাম আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন অরিন্দম রায়। তার বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় করা মামলা তদন্তের এক পর্যায়ে অভিনেত্রীদের মাদককাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেন।
কিন্তু জব্দ মোবাইল ফোন ‘লক’ থাকায় ফরেনসিক পরীক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকচক্রে সম্পৃক্ত থাকার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যে কারণে একমাত্র আসামি অরিন্দমকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গত ১৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আহসান হাবীব আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসান হাবীব আগামীর সময়কে বলেছেন, সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টে কোনো অভিনেত্রীর বিষয়ে মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া আসামি নিজেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি৷ সাক্ষ্য প্রমাণে যা পেয়েছি, সে অনুযায়ী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। অভিযোগপত্রের ১৩ জন সাক্ষী মামলার অভিযোগ প্রমাণ করবেন।
মাদক চক্রের সঙ্গে মডেলদের জড়িত থাকার বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামি অরিন্দমকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বাংলাদেশে অভিজাত এলাকায় এবং উচ্চবিত্ত শ্রেণির যুব সমাজের মধ্যে কোন কোন মাদক ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কারা এগুলো বাংলাদেশে নিয়ে এসে বাজারজাত করেন- এসব বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং স্ন্যাপ চ্যাট গ্রুপ তৈরি করেন। পরে মাদকচক্রের মাধ্যমে এই গ্রুপে মাদক বিক্রি এবং সরবরাহ করতেন। এ মাদক চক্রের সঙ্গে মডেল অভিনেত্রী তানজিন তিশা, সাফা কবির, টয়া এবং সুনিধির সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন তিনি৷ তবে আসামি অরিন্দম রায় তদন্তকারীর কাছে এসব বক্তব্য দিলেও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আপত্তি করেন। আসামির বক্তব্যের সত্যতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক কারবার করছে কিনা যাচাইয়ে তার জব্দ মোবাইল ফোন সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়।
তবে সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যলোচনায় দেখা যায়, মোবাইলটি পিন কোড দিয়ে লক থাকায় ল্যাবে লক বাইপাস করা যায়নি। এতে তারা মোবাইল ফোন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অন্য কারো সঙ্গে মাদক কারবারে জড়িত সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারেননি।
অভিযোগপত্রে মডেলদের নিয়ে বলা হয়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মডেল তিশা, সাফা, টয়া ও সুনিধির সঙ্গে আসামি মাদক কারবার ও ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার সত্যতা যাচাই করা হয়। আসামির মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক রিপোর্টের মাধ্যমে যে রিপোর্ট পাওয়া যায়, তাতে মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড লক থাকায় মডেলদের সঙ্গে বা অন্য কারো সঙ্গে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার তথ্য দিতে পারেনি। এজন্য আসামির বক্তব্য মতে মডেলদের সঙ্গে মাদক কারবারে সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর মাদক কেনা-বেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন অরিন্দম রায়। তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে কানাডা থেকে আমদানি করা মাদকদ্রব্য টেট্রা হাইড্রো ক্যানাবিনল ও উন্নত মানের গাজা কুশ, যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা হ্যাপি ড্রাগ এবং ৩৯ কেজি সিসা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ১৮ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন।