ফারুকী তার পোস্টে প্রশ্ন তুলেছেন, ১৬ই ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি, রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার কিংবা মেজর জলিলের মতো চরিত্ররা কেন আমাদের শিল্প-সাহিত্যে ব্রাত্য রয়ে গেল? তিনি আরও প্রশ্ন করেন, শেরে বাংলা এদেশের মানুষকে জমিদারি শোষণ থেকে বাঁচালেও কেন তিনি কালচারাল ন্যারেটিভের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেননি? ইলিয়াস আলী, সুমন বা আরমানের মতো ব্যক্তিদের গুম হওয়া কিংবা অতি সম্প্রতি আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেন কোনো ফিকশন ফিল্ম বা সাহিত্য রচিত হচ্ছে না—সেই সত্যও তিনি তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশে ‘প্রগতিশীল’ ও ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ সংজ্ঞার রাজনীতি অত্যন্ত চতুর বলে মন্তব্য করেন ফারুকী। তিনি লিখেছেন, জিয়ার রহমানের আমলে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো বড় সাংস্কৃতিক ঘটনা ঘটলেও বিএনপি কালচারালি ‘কুল’ হতে পারেনি। অন্যদিকে, ৭২-৭৫ এর নৈরাজ্য কিংবা ২০০৮ পরবর্তী গুম-খুনের রাজনীতির পরেও আওয়ামী লীগকে এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছে। ফারুকীর মতে, এই ‘হাই-কালচার’ (আওয়ামী লীগ) বনাম ‘লো-কালচার’ (বিএনপি-জামায়াত) বিভাজনের কারণেই ১৬ বছর ফ্যাসিবাদ টিকে ছিল। এই সাংস্কৃতিক কাঠামোর কারণেই সাধারণ মানুষের মন নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ওপর অত্যাচারে কাঁদেনি।