ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো এখনো দেশের প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। তবে এবারের কোরবানির ঈদ নিয়ে সিনেজগতে দেখা দিয়েছে ভিন্ন এক চিত্র। যেখানে প্রতি ঈদে গড়ে হাফ ডজন সিনেমা মুক্তি পায়, সেখানে এবার এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি সিনেমার সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মনে এখন বড় প্রশ্ন, তবে কি মাত্র দুই সিনেমাতেই চলবে এবারের ঈদ?
আসন্ন ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহের প্রাণ হতে যাচ্ছে শাকিব খান অভিনীত ‘রকস্টার’। আজমান রুশো পরিচালিত এই সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে আছেন সাবিলা নূর। টিজার ও মোশন পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে সিনেমাটি ইতোমধ্যেই আলোচনায় শীর্ষে রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘হাওয়া’ খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ সিনেমাটি নিয়েও দর্শকদের মাঝে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নাজিফা তুষি অভিনীত এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হওয়ার পর এবার ঈদে দেশের দর্শকদের সামনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে শঙ্কার জায়গাটি তৈরি হয়েছে আরও কয়েকটি সিনেমাকে ঘিরে। ঈদুল আজহায় মুক্তির তালিকায় নাম থাকলেও প্রচারণায় একরকম নিখোঁজ আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত সিনেমা ‘মালিক’। সাইফ চন্দন পরিচালিত এই সিনেমার কোনো পোস্টার বা টিজার এখনো চোখে পড়েনি। তবে সূত্র বলছে, এই সিনেমাটি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে কথা বলতে সাইফ চন্দনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
একই অবস্থা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘মাসুদ রানা’ সিনেমারও। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া গত মাসে ট্রেলার প্রকাশের কথা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো আপডেট দেখা যাচ্ছে না। ফলে ঈদে এই সিনেমাগুলোর মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেই না। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন সৈকত নাসির।
অনিশ্চয়তা রয়েছে শবনম বুবলী ও আদর আজাদ অভিনীত ‘পিনিক’ সিনেমাটি নিয়েও। গত দুই ঈদ ধরে মুক্তির ঘোষণা দিয়েও পিছিয়ে যাওয়া এই সিনেমাটি এবারও আসবে কি না, তা নিয়ে খোদ সিনেমাপাড়াতেই সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে নায়িকা বুবলী বর্তমানে আড়ালে থাকায় প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে বড় ঘাটতি। সিনেমাটির পরিচালক জাহিদ জুয়েল।
চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, গত কয়েক বছরে দর্শকদের হলমুখী করার যে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছিল, সিনেমার সংখ্যা কমে গেলে তাতে ভাটা পড়তে পারে। যেখানে রোজার ঈদেও পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল, সেখানে কোরবানির ঈদে বড় কোনো প্রচারণা ছাড়াই মাত্র দুটি সিনেমার ওপর নির্ভর করা প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত শাকিবের ‘রকস্টার’ আর মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’- এই দুই সিনেমা দিয়েই কোরবানির ঈদে প্রেক্ষাগৃহ মাতবে, এমনটাই ধরে নিয়েছে দর্শক।