বাঙালির আবেগের বরপুত্র নায়ক মান্না এবং তামিল চলচ্চিত্রের মেগাস্টার বিজয়-এর এক ফ্রেমে বাঁধানো একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০ বছর আগে তোলা বলে দাবি করা ওই ছবিতে দেখা যায়, ঢাকাই সিনেমার তৎকালীন অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট মান্না-র কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন আজকের তামিল মহাতারকা বিজয়।
তবে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকে ধারণা করছেন এটি কোনো বাস্তব ফ্রেম নয়; বরং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি কাল্পনিক ছবি।
অনেকেই বলছেন, মান্নার অনেক ছবির পোস্ট-প্রোডাকশন (যেমন এডিটিং, কালার গ্রেডিং) চেন্নাইয়ের প্রসাদ ল্যাব বা এভিএম স্টুডিওতে হতো। ২০০৩-০৪ সালের দিকে মান্না যখন তার ‘বাস্তব’, 'মিনিস্টার' বা ‘বীর সৈনিক’ সিনেমার কাজে চেন্নাইয়ে ছিলেন, তখন একই স্টুডিওতে বিজয়ের সিনেমারও কাজ চলছিল। সেই সুযোগেই তাদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে।
তবে, এ বিষয়ে চিত্রনায়ক মান্নার স্ত্রী শেলী মান্নাও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কিছু। তিনি বলেন, সেসময়টাতে আমি জব করতাম। অনেক আগের কথা, বিজয় থালপতির সাথে তার দেখা হতেও পারে, প্রায়ই তো ইন্ডিয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও কাজে যেত। তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”
ভাইরাল হওয়া এক পোস্টের নিচে এক ভক্ত মন্তব্য করেন, একজন ভক্ত মন্তব্য করেন, “নায়ক মান্না ছিল গণমানুষের নায়ক। চলচ্চিত্রে জীবনের বাস্তবতাটাই সবসময় ফুটিয়ে তুলেছেন।” আরেকজন লিখেছেন, “নায়ক মান্না রাজনীতিতে নেই, তাই তাঁর সম্মান চিরকাল থাকবে। আজ যদি রাজনীতি করতেন, তাহলে আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই বেশি হতো।”
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, নায়ক মান্না গণমানুষের হৃদয়ে এখনও কতটা গভীরভাবে জায়গা করে আছেন এটি তারই প্রমাণ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি পর্দায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
অন্যদিকে বিজয় আজ শুধু তামিল সিনেমার মহাতারকা নন, বরং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সকলকে চমকে দিয়েছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, মান্না বেঁচে থাকলে হয়তো তিনিও সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সরব হতেন। ঢালিউড ও কলিউডের এই দুই জনপ্রিয় তারকার ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুজনেই নিজ নিজ ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণ মানুষের নায়ক হয়ে উঠেছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে মান্না যখন সামাজিক বাস্তবতা ও প্রতিবাদী গল্পে ঢাকাই সিনেমাকে টেনে নিচ্ছিলেন, তখনই তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয় বিজয়-এর উত্থান।
ভাইরাল হওয়া এই এআই ছবি তাই ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে দুই মহাতারকার প্রতি ভক্তদের এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবেই দেখছেন অনেকে।