Image description

শতাব্দী ওয়াদুদ। অভিনেতা। আগামী ১ মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর অভিনীত সিনেমা ‘মানুষটিকে দেখ’। এ ছাড়া দুটি টিভি ধারাবাহিকেও অভিনয় করছেন তিনি। নতুন কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে এ অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন। 

সবসময়ই বাছবিচার করে কাজ করেন। ‘মানুষটিকে দেখ’ সিনেমার কাজে আগ্রহী হলেন কেন? 
একদিন রাকায়েত ভাই [গাজী রাকায়েত] প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি কাজ করছি, তোমাকে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। তখন মনে হলো, সিনেমা তো সবসময় করি। জীবিকা কিংবা ক্যারিয়ারের জন্য করি। এ রকম একটি প্রজেক্টের সঙ্গে থাকা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অভিনেতা হিসেবেও তো আমার একটু দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ রকম জায়গা থেকেই কাজটি করেছি।

সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কারণ সিনেমাটি শুধু বিনোদনের জন্য নয়; বরং একটি সামাজিক বার্তা বহন করে। আমরা সাধারণত প্রতিবন্ধী মানুষকে ভিন্নভাবে দেখি, কিন্তু এই সিনেমা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার কথা বলে। আমি মনে করি সিনেমাটি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। সিনেমায় দুজন প্রতিবন্ধী মানুষ অভিনয় করেছেন, যারা পেশাদার অভিনেতা নন, কিন্তু পর্দায় তারা এমনভাবে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন যেন মনে হয় তারা অনেকদিন ধরে অভিনয় করছেন। মনে হয়েছে তারা নিয়মিত অভিনয়ও করতে পারেন। 

সিনেমাটির মূল বার্তা কী?  
সেরিব্রাল পালসি নিয়ে সমাজে অনেক কুসংস্কার আছে। এই সিনেমা সেই ভুল ধারণাগুলো ভাঙতে চায়। এটি মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা।

আপনার চরিত্র নিয়ে কিছু বলবেন?
আমার চরিত্রটি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। পুরো গল্পে বিভিন্ন মানুষের জীবনসংগ্রাম, সম্পর্ক এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে যেখানে আমার চরিত্রও সেই বাস্তবতার অংশ। এখানে আমি অভিনয় করেছি পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। চরিত্রটি ছোট হলেও গল্পের যে জায়গায় এর উপস্থিতি তাতে গুরুত্ব অনেক। চরিত্রটি নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। আমি চাই কাজটি দর্শক পর্দায় দেখুক। 

বর্তমান সময়ের কনটেন্টে ‘ভিউ’র প্রভাব কীভাবে দেখছেন?
এখন ভিউর একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অনেক সময় মানের চেয়ে ভিউকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, ভিউর এই ব্যবসা চিরস্থায়ী হবে না। ভালো কনটেন্টই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে।

আপনার অভিনয়ের শক্তি কোথায় বলে মনে করেন?
আমি চেষ্টা করি প্রতিটি চরিত্র পরিচালকের চাহিদা অনুযায়ী ফুটিয়ে তুলতে। একেকটি চরিত্র একেক রকম– এই বৈচিত্র্যটাই আমার কাজের জায়গা।

ফুটবল ৭১ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে কেমন আশাবাদী?
আমাদের দেশে ফুটবল নিয়ে সিনেমা হাতে গোনা। এটি একটি সত্য ঘটনা কিন্তু সিনেমায় অনম বিশ্বাস এত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, না দেখলে দর্শক বুঝতে পারবেন না। এখানে আমি ফুটবল দলের কোচ ননী বসাকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। চেষ্টা করেছি চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে। চরিত্রটি চ্যালেঞ্জিং ছিল। শুটিংয়ের জন্য বিভিন্ন লোকেশনে ছুটে বেড়াতে হয়েছে। সব মিলিয়ে সিনেমাটি ভালো হবে– এটি আশা করাই যায়।

নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
নিয়মিত চর্চা খুব জরুরি। বিশেষ করে মঞ্চে কাজ করলে অভিনয়ের ভিত মজবুত হয়। দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

‘মানুষটিকে দেখ’ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের জন্য কিছু বলবেন?
দর্শকদের বলব, ভালো কনটেন্টকে সমর্থন করুন। ‘মানুষটিকে দেখ’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি আমাদের সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে।

মঞ্চের নতুন কাজের খবর কী? 
নাট্যদল ‘প্রাচ্যনাট’ এর নতুন দুটি প্রযোজনার কাজ চলছে। শিগগিরই নাটকগুলো মঞ্চে আসবে। অক্টোবরে একটি নাটক  মঞ্চায়ন হবে। আরেকটি পরে আসবে। এ ছাড়া প্রাচ্যনাটের ৩০ বছর পূর্তি উৎসব নিয়েও প্রস্তুতি চলছে।