Image description

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর আজ মঙ্গলবারও সেখানে অবস্থান নিয়েছেন গ্রাহকরা। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে পরে মিছিল করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে যান।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। সকাল ১০টার দিকে মিছিল নিয়ে তারা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন। তবে সেখানে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও ২৫ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে সংঘর্ষে প্রায় ৫৫ জন আহত হওয়ার পাল্টাপাল্টি দাবি ওঠে।

আজকের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার এলাকায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অশুভ তৎপরতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার ও ব্যাংকের স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করতে হবে। অবৈধভাবে নেওয়া ঋণ সুবিধার সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নুরুন্নবী মানিক আরও বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে তা বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং কোনো শর্ত ছাড়াই চাকরিতে ফেরানোর দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছেন।

তারা বলেন, চাকরিচ্যুতদের দাবি ও অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দাবি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

গতকাল ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সংঘর্ষের পর আজ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পরিবর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে যান তারা।

ফলে তৃতীয় দিনে এসে ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে দুই পক্ষের কর্মসূচির স্থান আলাদা হয়ে গেছে। একদিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে গ্রাহক ফোরামের অবস্থান, অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব অভিমুখে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিল।