একসময় স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ ছিল গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বির্তুল গ্রামের কাঁকরোল। এখন সেই কাঁকরোল যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। রপ্তানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন গ্রামের কৃষকরা। নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই গ্রামের কৃষিতে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালু নদীর পাড়ঘেঁষা বির্তুল গ্রামের বিভিন্ন জমিতে বাঁশ ও সুতার মাচায় ছড়িয়ে আছে কাঁকরোলের লতা। ভোর থেকেই পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভালো মানের কাঁকরোল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।
দীর্ঘদিন ধরে এক বিঘা জমিতে কাঁকরোল চাষ করছেন গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ মোল্লা। ষাটোর্ধ্ব এই কৃষক জানালেন, সঠিক পরিচর্যা ও জৈব সার ব্যবহারে ফলন ভালো হয়। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যায়।
কয়েক বছর সিঙ্গাপুরে থাকার পর দেশে ফিরে কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন নীল কমল চন্দ্র দাস। তিনিও প্রায় এক বিঘা জমিতে কাঁকরোল চাষ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ এরই মধ্যে উঠে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
নীল কমল বলেছেন, রপ্তানির জন্য ঠিক রাখতে হয় কাঁকরোলের মান। উৎপাদিত কাঁকরোল ভাগ করা হয় গ্রেড-এ ও গ্রেড-বি হিসেবে। উন্নতমানের কাঁকরোল নিয়ে যান রপ্তানিকারকরা, অন্যটি বিক্রি হয় স্থানীয় বাজারে।
স্থানীয় রপ্তানিকারক শরীফ সরকার জানিয়েছেন, প্রায় আট বছর ধরে কৃষিপণ্য রপ্তানি করছেন তিনি। আগে বরবটি ও লাউ পাঠালেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কাঁকরোলের চাহিদা বেশি থাকায় এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। বির্তুলের কাঁকরোলের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাসিবুল হাসান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন বির্তুলের কৃষকরা। কাঁকরোল চাষে তাদের সাফল্য অন্য কৃষকদের জন্যও অনুকরণীয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হচ্ছে কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। রপ্তানি বাড়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও
ভূমিকা রাখছেন।
কৃষকদের আশা, রপ্তানির বাজার আরও সম্প্রসারিত হলে বাড়বে কাঁকরোল চাষ। এতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বালু নদীর পাড়ের বির্তুল গ্রামের আরও অনেক কৃষকের জীবিকায়।