এক মাসের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যে চাল গত মাসেও ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটিই এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। চালের এমন অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
গতকাল বুধবার দুপুরে নওগাঁ পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে আতপ চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। মাসের হিসাবে এই বৃদ্ধি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বর্তমানে খোলা বাজারে মানভেদে চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। আর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটজাত চালের দাম ২০০ থেকে ২১০ টাকা।
একই সময়ে কাটারি ও জিরাশাইলসহ চিকন চালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি। যদিও মোটা স্বর্ণা-৫ চালের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বস্তাপ্রতি বেড়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা
নওগাঁ পৌর খুচরা ও পাইকারি চাল বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০ কেজির একেকটি চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম এক মাসে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সুবল চন্দ্র সেন বলেন, ‘করপোরেট কোম্পানিগুলো প্যাকেটজাত চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় খোলা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’
চকবাড়িয়া এলাকার শ্রমজীবী আব্দুর রহিম বলেন, ‘আগে মাসে দুই-তিন কেজি চিনিগুঁড়া চাল কিনতাম। এখন এক কেজি কিনতেই হিসাব করতে হয়। বাচ্চাদের জন্য বা অতিথি এলে পোলাও রান্না করাও কঠিন হয়ে গেছে।’
শহরের বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘চালের এমন দাম বাড়বে ভাবিনি। বাজারে গেলে প্রতিদিনই নতুন দাম শুনতে হচ্ছে।’
বাজারে কথা হয় আরও কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। তাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিক ব্যাখ্যা তারা পাচ্ছেন না। কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে অসাধু চক্র সুযোগ নিচ্ছে বলে তাদের ধারণা।
‘ক্ষুদ্র মিলগুলোর টিকে থাকাই কঠিন’
স্থানীয় ফারিহা ও শেখ রাইস মিলের মালিক শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘চালের ব্যবসা ধীরে ধীরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। তারা যেভাবে দাম নির্ধারণ করছে, তার প্রভাব পুরো বাজারে পড়ছে। এতে ছোট ও মাঝারি মিল মালিকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না।’
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে চিনিগুঁড়া চালের দাম যে হারে বেড়েছে, তা স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাজারে কারা চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’
জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, ‘সুগন্ধি চালের এই মূল্য বৃদ্ধির জন্য মূলত দেশের করপোরেট ব্যবসায়ীরাই দায়ী। তারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বাজারে অভিযান পরিচালনা করব।’