দেশের জীবন বীমা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৬০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কার শীর্ষস্থানীয় জীবনবীমা প্রতিষ্ঠান সফটলজিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
দেশের বিমা খাতে এটিই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক অধিগ্রহণের ঘটনা। যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করলো শ্রীলঙ্কান এই প্রতিষ্ঠানটি।
২০১৪ সালে লাইসেন্স পেয়ে ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন এবং ১৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশের ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
সফটলজিক লাইফের এই বহুল প্রতিক্ষিত আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিনিয়োগের ফলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও আর্থিক সক্ষমতায় বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফটলজিক কোম্পানি সূত্র বলছে, কোম্পানিটি শুধু স্বল্পমেয়াদি মুনাফার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং সেবার মান বাড়াতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য বিমাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
গত এক দশকে শ্রীলঙ্কায় একটি উদীয়মান কোম্পানি থেকে অন্যতম শীর্ষ বীমা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে সফটলজিক লাইফ। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিমায় তারা অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। পরিকল্পিত কার্যক্রম ও উদ্ভাবনী সেবার মাধ্যমে বিগত ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ গুণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
টানা চার বছর ধরে তাদের ব্যবসা ও মুনাফা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে, যা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গেও প্রশংসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান নরফান্ড ও ওপি ফিনফান্ডের মতো সংস্থার কৌশলগত বিনিয়োগ সফটলজিক লাইফের আর্থিক ভিত্তিকে করেছে আরও শক্তিশালী।
জীবনবিমার ক্ষেত্রে গ্রাহকের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা হলো বীমা দাবি বা ক্লেইম দ্রুত পরিশোধ করা। সফটলজিক লাইফ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কাগজপত্রের দীর্ঘ জটিলতা দূর করে দ্রুততম সময়ে ক্লেইম নিষ্পত্তির জন্য পরিচিত। শ্রীলঙ্কায় দ্রুততম সেবা দিয়ে কোটি মানুষের আস্থা জয় করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশেও একই আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ সেবা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।