Image description

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন শেড, ইয়ার্ড ও অভ্যন্তরীণ সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার পণ্য ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আমদানিকারক ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। 

তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। অথচ স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে সাময়িকভাবে শ্যালো বা পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি অপসারণ করেই দায়িত্ব শেষ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে বন্দর ঘুরে দেখা যায়, ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন ১৪, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর শেডসহ একাধিক গুদামে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। এ ছাড়া ৯ নম্বর শেডের ভেতরে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবেশ করেছে। সেখানে রাখা নিচের সারির বিপুল পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের মধ্যে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত বিভিন্ন শিল্পকারখানার কাঁচামাল, গার্মেন্টস পণ্য, কাপড়, খাদ্যপণ্য, কেমিক্যালসহ নানা ধরনের মালামাল রয়েছে।

তবে কয়েকটি শেড তালাবদ্ধ থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দরের অধিকাংশ ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। ফলে টানা বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারেনি। অতিরিক্ত চাপে পানি শেডের ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত দুই দিন ধরে পাওয়ার পাম্প ও শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি অপসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবার ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে।

আমদানিকারক আল মামুন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বেনাপোল বন্দর পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে আছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষায় কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দেয় না।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল বলেন, স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ সমস্যাসহ নানা অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরছে। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্ব না দেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, প্রতি বছর একই চিত্র দেখা যায়। কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হচ্ছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন এবং উপ-পরিচালক রুহুল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

তবে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজী রতন বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি প্রবেশ করেছে এবং কিছু পণ্য ভিজেছে। পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ চলছে। অবিরাম বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে।