Image description

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণের পরবর্তী কিস্তি জুনের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি না থাকায় আপাতত কিস্তির টাকা দিচ্ছে না তারা। সংস্থাটি জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো পূরণ না হওয়ায় এখনই অর্থ ছাড়ে তারা রাজি নয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের একটি সূত্র গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জানা গেছে, ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় জুনে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার আশা ছিল সরকারের। তবে আইএমএফ স্পষ্ট করেছে, এই সময়ের মধ্যে সেই অর্থ মিলবে না। কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এখনো ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা রয়েছে।

আইএমএফ বলছে, রাজস্ব বাড়ানো, ব্যাংকিং খাত ঠিক করা, জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানো এবং বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হার চালুর মতো শর্তগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে কিস্তি ছাড়ে তারা অনাগ্রহ দেখাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সব শর্ত পূরণের আশ্বাস দিলেও অর্থ ছাড় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। আইএমএফ এখন নতুন শর্তে নতুন ঋণ কর্মসূচির দিকেই বেশি ঝুঁকছে।

এদিকে, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিধান নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাজেটের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে তারা।

জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ সামলাতে বাংলাদেশ আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহজ শর্তে অর্থ পাওয়ার পথও খোঁজা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ, যা পরে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে।

আইএমএফের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের সামনে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে না পারা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।