Image description

ঈদের কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়ে। কিন্তু সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে উচ্চ সুদ বসবে। এতে দেনার পরিমাণও বেড়ে যাবে।

ঈদে পোশাক, উপহার বা ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার সময় অনেকেই পুরো খরচটা কার্ডে দেন। মাস শেষে বিলের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় পরিকল্পনা ছাড়া এগোলে সুদের চাপে আর্থিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার সমস্যা নয়; সমস্যা হয় নিয়ন্ত্রণহীন খরচ ও বিলম্বিত পরিশোধে। তাই ঈদের পরপরই কার্ডের দেনা সামাল দিতে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে কিছু কৌশল বলা হলো—

১. যতটা সম্ভব বেশি পরিশোধ

ক্রেডিট কার্ডে ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ বা সবচেয়ে কম অর্থ পরিশোধ করার সুযোগ থাকে। তবে এতে মূল দেনা কমে খুব সামান্য, বরং বাকি টাকার ওপর সুদ জমতে থাকে। তাই সম্ভব হলে সর্বনিম্নের চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করুন। এতে সুদের বোঝা দ্রুত কমবে।

২. সুদের হার বুঝে নিন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে, ক্রেডিট কার্ডে সুদের হার সাধারণত বেশ উচ্চ। তাই বিলের কত অংশে সুদ বসছে, সেটি হিসাব করে নেওয়া জরুরি। এতে বোঝা যাবে, দেরি করলে অতিরিক্ত কত টাকা গুনতে হবে।

৩. ঈদের খরচ আলাদা করুন

ঈদের কেনাকাটার খরচগুলো আলাদা করে লিখে রাখতে পারেন। কোনটি প্রয়োজনীয়, কোনটি বিলাসী—এসব চিন্তা করুন। এতে ভবিষ্যতে খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। এ ছাড়া কোন খাতে কাটছাঁট করবেন, তা নির্ধারণ সহজ হবে।

৪. বড় অঙ্কের দেনা হলে ভাগ করে শোধ

একবারে পুরো টাকা দেওয়া সম্ভব না হলে পরিকল্পনা করে ২ বা ৩ মাসে ভাগ করে শোধ করা যেতে পারে। তবে এ সময় খরচ করার ক্ষেত্রে কার্ড ব্যবহার সীমিত রাখা জরুরি। এতে ঋণের চাপ কমবে।

৫. বিলের নির্ধারিত তারিখ মিস নয়

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হয়। তাই মোবাইল রিমাইন্ডার সেট করা বা স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট চালু রাখা যেতে পারে।

পুরোনো দেনা পরিশোধের আগে নতুন করে বড় কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন। এতে ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।