Image description

ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘আলফাফা’য় নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে বই কেনাবেচার বাজার চালু এবং প্ল্যাটফর্মে বই পড়ার ব্যবস্থা। আলফাফার বাংলাদেশ পরিচালক মুফতি আবদুল্লাহ তামিম এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশের মানুষ প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর মিলিয়ে অ্যাপটি তিন মিলিয়নের বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে।

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম বলেন, ‘নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী আলফাফায় বই কেনাবেচার জন্য আলাদা বাজার চালু করা হবে। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মটির ভেতরেই বই পড়ার সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব সুবিধা চালু হলে সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি বই সংগ্রহ ও পাঠের ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।’ তবে নতুন সুবিধাগুলো চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

আলফাফার নির্বাহী পরিচালক আসিফ সাঈদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্ল্যাটফর্মটির সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ হাজারের বেশি। তবে এসব পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কয়েকজন তরুণের উদ্যোগে প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে দাওয়াহ, শিক্ষা, ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। মূলধারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা।

 

আসিফ সাঈদ বলেন, বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সামাজিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা প্রচলিত প্ল্যাটফর্মগুলো পুরোপুরি পূরণ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে এসব মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা থেকে ইসলামী মতাদর্শভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি ‘ডিজিটাল উম্মাহ’ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

যেসব সুবিধা রয়েছে

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আলফাফায় সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি ব্লগ, ফোরাম, চাকরি, শিক্ষাদান ও ই-কমার্সের সুবিধা রয়েছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যবসা, মসজিদ, হালাল রেস্টুরেন্ট, চাকরি ও পেশাদার পরিচিতি বিনামূল্যে তালিকাভুক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া প্ল্যাটফর্মটিতে অনুদান দেওয়ার সুবিধা ও ই-ওয়ালেট যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিভিন্ন কোর্সে সাত হাজার শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মটিতে ২২ হাজারের বেশি রিলস প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, হাদিস ও বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ভিত্তিক কনটেন্টও প্রকাশ করা হয়।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘Alfafaa Connect’ নামে একটি লাইট সংস্করণ চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এতে কম ডেটা খরচে অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নতুন আরেকটি অ্যাপ চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

বাংলাদেশেও ব্যবহার

গত জুলাইয়ে আলফাফার বাংলাদেশের পরিচালক মুফতি আবদুল্লাহ তামিম কালবেলাকে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশেও প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তার ভাষ্য, ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই আলফাফার অন্যতম উদ্দেশ্য।

তখন প্ল্যাটফর্মটির কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবহারকারীও তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নাজমুল হক জিম বলেন, আলফাফায় ইসলামী বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট পাওয়া যায়। তাঁর কাছে এটি ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে যোগাযোগের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

জামিয়াতুস সুন্নাহ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি মাহদি হাসান সাবেরি বলেন, প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। আলফাফা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামী নীতিমালাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে।

অন্যদিকে, কলেজশিক্ষার্থী সাবিকুন্নাহার প্ল্যাটফর্মটির গোপনীয়তা ও যোগাযোগব্যবস্থাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, অপরিচিত পুরুষদের সরাসরি বার্তা পাঠানোর সুযোগ সীমিত থাকায় নারীদের জন্য কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হতে পারে।

আলফাফা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্ল্যাটফর্মটিতে অশ্লীলতা, ফিতনা ও ইসলামবিরোধী কনটেন্ট প্রকাশের সুযোগ নেই। তবে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা সুরক্ষার কার্যকারিতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে ‘Alfafaa’ লিখে সার্চ করে অ্যাপটি পাওয়া যায়।