জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে একাধিক আকর্ষণীয় ফিচার উন্মোচন করেছে। এখন থেকে আর কোনো আলাদা কম্পিউটার অ্যাপ ডাউনলোড করা ছাড়াই সরাসরি ‘হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব’ (WhatsApp Web) থেকে অডিও ও ভিডিও কল করা যাবে।
এর পাশাপাশি কলিং অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও সুরক্ষিত করতে আরও বেশ কিছু নতুন আপডেট এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এক ব্লগ বার্তার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ তাদের এই নতুন আপডেটগুলোর কথা নিশ্চিত করেছে।
নতুন আপডেট
১. ওয়েব কলিং: এখন থেকে ব্রাউজারে ব্যবহৃত ‘হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব’ থেকেই সরাসরি যেকোনো ব্যক্তি বা গ্রুপে অডিও-ভিডিও কল করা যাবে। এ জন্য ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার ঝামেলা থাকবে না, ফলে অফিস বা অন্যের শেয়ার্ড কম্পিউটারেও এটি সহজে ও নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে। এতে মোবাইলের মতোই স্ক্রিন শেয়ারিং, ইমোজি রিঅ্যাকশন এবং কল হিস্ট্রি দেখার সব সুবিধা থাকছে।
২. কল ট্রান্সফার: চলমান কোনো কল না কেটেই এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে কল স্থানান্তর করার চমৎকার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। যেমন—বাইরে থাকা অবস্থায় মোবাইলে শুরু করা একটি গ্রুপ কল ঘরে ফিরে এক ক্লিকেই ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের বড় স্ক্রিনে সরিয়ে নেওয়া যাবে, ফলে কথা বলায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
৩. ওয়েটিং রুম: গ্রুপ কলে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ঠেকানো এবং বাড়তি নিয়ন্ত্রণ রাখতে জুম বা গুগল মিটের মতো যুক্ত করা হয়েছে ওয়েটিং রুম। হোস্ট চাইলে ‘রিকুয়ার টু জয়েন’ অপশন চালু করে কলের লিংক পাঠাতে পারবেন, যার ফলে লিংকে ক্লিক করলেও হোস্টের সরাসরি অনুমোদন বা পারমিশন ছাড়া কেউ কলে যুক্ত হতে পারবে না।
৪. কুইক এইচডি: সাধারণত ভিডিও কল শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক সেকেন্ড নেটওয়ার্ক মেলানোর কারণে স্ক্রিন কিছুটা ঝাপসা বা কম রেজোলিউশনের দেখায়। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কুইক এইচডি চালু করা হয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কলের প্রথম মুহূর্ত বা প্রথম সেকেন্ড থেকেই একদম স্পষ্ট ও এইচডি কোয়ালিটির ভিডিও নিশ্চিত করবে।
৫. নয়েজ সাপ্রেশন: রাস্তাঘাট, বাজার বা অফিসের আশপাশের গোলমেলে ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশের শব্দ ফিল্টার করার জন্য যুক্ত হয়েছে নয়েজ সাপ্রেশন সুবিধা। এটি গাড়ির হর্ন বা বাতাসের মতো বাইরের সব অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ দূর করে অপর প্রান্তের মানুষের কাছে আপনার কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেবে, যা ব্যবহারকারী ইন-কল সেটিংস থেকে যেকোনো সময় চালু বা বন্ধ করতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়েব কলিংসহ প্রতিটি কলিং সুবিধাই সম্পূর্ণ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্যের পূর্ণ সুরক্ষা বজায় থাকবে এবং এতে কোনো সময়সীমা বা অতিরিক্ত খরচ থাকবে না। নতুন ফিচারগুলো পর্যায়ক্রমে বিশ্বব্যাপী সব ব্যবহারকারীর জন্যই উন্মুক্ত করা হচ্ছে। (সূত্র: হোয়াটসঅ্যাপ ব্লগ)