Image description

পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন সাকিব আল হাসান—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কয়েকজন পরিচালক এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাতেও ছিল সে ইঙ্গিতেরই প্রতিফলন। একটা সময় যে সাকিবের পোস্টার কিংবা তাঁকে নিয়ে লেখা খচিত ব্যানার নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকাই যেত না, কদিন আগে সেই সাকিবের নামেই সমর্থকদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। মাঠে সেই সব সমর্থকদের হাতে ছিল পোস্টার-ফেস্টুনও। তাতে অনেকেই মনে করেছিলেন, সাকিবের অপেক্ষা বুঝি ফুরোল!

তবে সাকিবকে বাইরে রেখেই পাকিস্তান সিরিজের দল দিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে জাতীয় দলের ফেরার জন্য সাকিব ও তাঁর সমর্থকদের অপেক্ষাটা বাড়ল। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১১ মার্চ। মিরপুর শেরেবাংলায় শুরু হতে যাওয়া সে সিরিজে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে খেলবে বাংলাদেশ। সিরিজের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে অনেকেই খুঁজেছেন সাকিবের নামটা। কিন্তু দলে খুঁজে পাওয়া যায়নি সাকিবের নাম। তাতে এই প্রশ্নটাও নতুন করে আবার সামনে এসেছে, সাকিব কি জাতীয় দলে আদৌ ফিরতে পারবেন, ফিরলে কবে ফিরবেন? সে অপেক্ষার শেষ হবে কবে!

ঘরের মাঠে জাতীয় দলের জার্সিতে সাকিব সবশেষ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের মে মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে টি-টোয়েন্টি। এরপর সাকিব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেললেও সবই খেলেছেন দেশের বাইরে। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হোম সিরিজ তো নয়-ই, বিপিএল, ডিপিএলও খেলতে পারেননি সাকিব আল হাসান। কারণ, তিনি পতিত সরকারের এমপি ছিলেন। ক্রিকেটার সাকিবের চেয়ে রাজনীতিবিদ সাকিবের পরিচয়টাই মুখ্য হয়ে ওঠে।

১৬ মাস ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে না পারা সাকিবের ফেরা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয় এ বছরের ২৪ জানুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভার পর। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পর সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমিনুল হক দায়িত্ব নিয়েই জানিয়েছিলেন, সাকিবকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে রাষ্ট্র নমনীয় অবস্থায় রয়েছে। তবে বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডারের নামে যেসব মামলা রয়েছে, আগে সেসবের নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আমিনুল। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর এ কথায় সাকিবের ভক্তরা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন।

কদিন যেতেই আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলের ফিরতে চাইলে সাকিবকে প্রমাণ করতে হবে তিনি নিরপরাধ। আর এটি তাঁকে করতে হবে উকিলের মাধ্যমে মামলায় লড়াই করে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলেই দলে ফেরার কোনো বাধা থাকবে না তাঁর।

তবে সাকিবকে নিয়ে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর এখনো ইতিবাচক। ২৪ ফেব্রুয়ারি আজকের পত্রিকার পডকাস্টে আসিফ বলেছিলেন, ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ফাইল যাওয়ার পরে তাদের যে আগ্রহ এবং গতকাল আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সালাহউদ্দিন আহমদ) ঘোষণা দিয়েছেন, ৫ আগস্টের পরে যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলোর যাচাই-বাছাই করা হবে। সত্যতা কতটুকু, কতটুকু সঠিক, কতটুকু যৌক্তিক, কতটুকু অযৌক্তিক চেক করা হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা একটা ইতিবাচক আবহ দেখতে পাচ্ছি। এখন শুধু সংক্ষেপে বলতে চাই, সাকিব আল হাসান আসবেন এবং আমরা উৎসবমুখর থাকব ইনশা আল্লাহ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু হবে। অপেক্ষা করছি।’ কক্সবাজারে গিয়েও আসিফ একই কথা বলেছেন।

২০২৪ সালের অক্টোবরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না থাকলেও সাকিব পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগসহ (সিপিএল) বিদেশের অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন। এতে নিজের ফিটনেস ধরে রাখার পাশাপাশি ম্যাচ অনুশীলনের মধ্যও থাকছেন তিনি। এখন শুধু সাকিবের দরকার আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা লড়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা।

পাকিস্তান সিরিজের পর এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড। মে মাসে বাংলাদেশ সফর করবে অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া—এই তিন দলের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজও খেলবে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলা সাকিবের সামনের এ সব সিরিজে খেলা হবে কি না, তা শুধু সময়ই বলে দেবে।