
২০২৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। গত বছর গণ-অভ্যুত্থানে দেশের সরকার পরিবর্তনের কারণে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডের ১২ জন পরিচালক আত্মগোপনে চলে যান। পাপন নিজেও বিদেশ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২১শে আগস্ট ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফারুক আহমেদ ও নাজমুল আবেদিন ফাহিমকে বিসিবি’র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। বোর্ড সভায় ফারুককে সভাপতি নির্বাচিত করা হলেও নানা বিতর্কে জড়িয়ে তিনি মাত্র ৯ মাসেই বিদায় নেন। এরপর দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার দায়িত্ব পান বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। জানা গেছে, তার অধীনেই অক্টোবরে বিসিবি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গুঞ্জন আছে, এরইমধ্যে নির্বাচন নিয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কে হবেন সভাপতি? বর্তমান বিসিবি প্রধান বুলবুল জানিয়েছেন, এনএসসি চাইলে তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে চান। এনএসসি’র একটি সূত্র দৈনিক মানবজমিনকে জানিয়েছে, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নির্বাচনের সবুজ সংকেত দিয়েছেন। অক্টোবরে বিসিবি’র নির্বাচন হবে। এটা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে, সভাপতি কে হতে পারেন তা এখনো নিশ্চিত নয়। আমিনুল ইসলাম বুলবুল চাইলে তিনি এনএসসি থেকে আবারো পরিচালক হয়ে সভাপতি হতে পারেন।’ আগেও ফারুক ও বুলবুল দু’জনই এনএসসি’র চাওয়াতেই বিসিবি’র সভাপতি হয়েছেন।
গুঞ্জন ছিল যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে বিসিবি’র নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হবে। এ কারণে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষে এডহক কমিটির হাতে ক্ষমতা যেতে পারে। ক্রিকেট সংগঠকদের একটি পক্ষ এমনটাই চেয়েছিল। তবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় চাইছে কোনো এডহক কমিটি নয়, অক্টোবরেই বিসিবি’র নির্বাচন হবে। কিন্তু এই নির্বাচন আয়োজনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো- দ্রুত কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করা। ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে প্রায় ২০টির কাউন্সিলর নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ ছাড়াও সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর তালিকা তৈরি করা। কারণ এডহক কমিটি যে কাউন্সিলরদের তালিকা দেবে, তা নিয়ে অনেক বিভাগ ও জেলায় চরম মতবিরোধ রয়েছে। জানা গেছে, বেশ কয়েকটি জেলা ও বিভাগের সংগঠকরা অনিয়ম দেখলে রিট করে নির্বাচন বন্ধ করতে প্রস্তুত। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিসিবি সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুত। বিসিবি’র নির্বাচন মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে হয়: বিভাগ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা, ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্লাব এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থা। সবশেষ নির্বাচন অনুযায়ী, মোট ১৭১ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়েছিলেন, যারা ২৩টি পরিচালক পদের জন্য নির্বাচিত করেন। এই নির্বাচনে কাউন্সিলররা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভোট দেন এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত পরিচালক পদের জন্য কোনো নির্বাচন হয় না। মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে বিসিবি’র ২৩টি পরিচালক পদে নির্বাচন হবে। এর মধ্যে পরিচালক ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগ) থেকে ১০ জন, ক্যাটাগরি-২ (ক্লাব) থেকে ১২ জন এবং ক্যাটাগরি-৩ (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাবেক ক্রিকেটার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান) থেকে একজনকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন কাউন্সিলররা। এই ২৩ জন ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে দু’জন পরিচালক আসবেন। এই পরিচালকদের ভোটেই নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন। জানা গেছে, দ্রুতই কাউন্সিলর তালিকা প্রণয়ন করতে চিঠি দেয়া হবে।
এনএসসি সূত্রের দাবি, আমিনুল ইসলাম বুলবুল চাইলে তারা বিকল্প কাউকে ভাববেন না। বুলবুল ছাড়াও সভাপতি হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মাহবুব আনামের। যদিও তিনি নির্বাচন করবেন না বলেই আলোচনা আছে এবং তিনি নিজেই এমনটা জানিয়েছেন। তবে ক্লাবগুলো তাকেই চাইছে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে থাকবেন এমন প্রত্যাশা ক্লাব-প্রতিনিধিদের। এরইমধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গ্রুপ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনটি ক্যাটাগরিতেই রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এ ছাড়াও সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবালের নামও শোনা যাচ্ছে। জানা গেছে, তিনি ক্লাব থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এরইমধ্যে তিনি নানা রকম জোটও বাঁধছেন। তবে তার পরিচালক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সভাপতি হওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। আগামী ২রা সেপ্টেম্বর সিলেটে বিসিবি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সভা হবে এবং সেখানেই হয়তো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা আসতে পারে। বিষয়টি জানিয়ে বিসিবি’র পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচনের ব্যাপারে সবুজ সংকেত পেয়েছে। ২ তারিখের বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।