বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে আফগানিস্তানকে হার থেকে বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সেদিকুল্লাহ আতাল। ছয় দিন পর আবারও সেঞ্চুরির দেখা পেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এবার ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বোলারদের বিপক্ষে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন তিনি। তার শতকের সঙ্গে ইব্রাহিম জাদরানের ৯০ রানের ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ২৯৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছে আফগানিস্তান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয় আফগানিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৯৪ রানে অলআউট হয় রহমত শাহর দল।
আফগানিস্তানের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৫০ রান যোগ করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। অষ্টম ওভারের প্রথম বলে গুরবাজ ২৫ রানে ফিরলে ক্রিজে আসেন আতাল। এরপর জাদরানের সঙ্গে ১৪০ রানের জুটি গড়ে দলের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করেন তিনি।
শতকের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৯০ রানে থামেন জাদরান। ৯৬ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। তবে অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন আতাল। ১১০ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ১০২ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ইনিংসের ৪৫তম ওভারে সিকান্দার রাজার বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি আতালের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হারারেতে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই প্রথম ওয়ানডে শতক পেয়েছিলেন তিনি। সেবার করেছিলেন ১০৪ রান।
আতালের এবারের সেঞ্চুরি বাংলাদেশের জন্যও সতর্কবার্তা। গত ১৩ অক্টোবর আবুধাবিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করেছিলেন তিনি। তার দীর্ঘ ইনিংস ও শেষ দিকে আফগান ব্যাটারদের প্রতিরোধে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ড্র হয়েছিল ম্যাচটি।
টেস্টে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের পর এবার ওয়ানডেতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন আতাল। বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ লিগ ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তান। তার আগে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এদিকে আতালের শতকের পরও শেষ দিকে নিয়মিত উইকেট হারানোয় তিনশ রান স্পর্শ করতে পারেনি আফগানিস্তান। ৪৫তম ওভারে আতাল যখন ফেরেন, দলের সংগ্রহ ছিল ২৫৯ রান। সেখান থেকে শেষ পাঁচ উইকেটে আসে মাত্র ৩৫ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে আর্নেস্ট মাসুকু ও ব্র্যাড ইভান্স তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। দুটি পেয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি।