পর্তুগাল তথা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা সুপারস্টার তিনি। ৪১ বছর বয়সেও ছুটছেন হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে। সেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই ডেনমার্কে পর্তুগালের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে আকস্মিকভাবে চলে গেছেন! পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম 'ও জোগো'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ডেনমার্কে পর্তুগালের ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে আকস্মিক তার বিদায় নেওয়ার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে শোরগোল শুরু হয়। কোচ জোর্জে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্বের জেরে রাতেই ক্যাম্প ছাড়েন তিনি। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে জানান, ‘কোচ এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার পর আমি জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যথাসময়ে আমি পর্তুগালের সকল মানুষকে জাতীয় দল ছাড়ার পেছনের মূল সত্যটি জানাব। জাতীয় দলকে আমি সর্বোচ্চ উজার করে দিয়েছিলাম। পর্তুগাল এবং আমার সব সতীর্থের জন্য সবসময় শুভকামনা থাকবে।’ যদিও তার এই বিবৃতিতে সরাসরি অবসরের ঘোষণা ছিল না, তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে পর্তুগালের জার্সিতে তার মাঠে নামার অধ্যায়টি চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।
এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে যে, ৯৭৮টি গোলের মালিক রোনালদোর ক্যারিয়ার কেন এত বাজেভাবে শেষ হওয়ার পথে? গত উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দল থেকে তার অবসরের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে কিছুদিন আগে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন, যা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, পর্তুগাল দলে রোনালদোর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। আবার কোনো কোনো গণমাধ্যম বলছে, রোনালদো আবার ফিরে এলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!
২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে সিনিয়র ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের পথচলায় তিনি দেশের হয়ে রেকর্ড ২৩৪টি ম্যাচ খেলে করেছেন ১৪৬টি গোল, যা পুরুষ আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোল ও ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড। ২০১৬ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের (ইউরো) শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।