Image description

 

ফুটবল মাঠে অর্জনের প্রায় সব শিখরই ছুঁয়েছেন লিওনেল মেসি। এবার তার মুকুটে যোগ হতে যাচ্ছে মাঠের বাইরের এক বিরল সম্মান। আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয় (ইউবিএ) সর্বসম্মতিক্রমে মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাব্য শেষ ম্যাচের ঠিক আগের দিন এই সম্মাননা পাওয়ার কথা আর্জেন্টাইন মহাতারকার।  

 

 

মেসির হাতে সম্মানসূচক ডক্টরেট তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চপরিষদ। তাদের ভাষায়, মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ার শুধু সাফল্যের নয়, উৎকর্ষ, অধ্যবসায়, বিনয় ও নিজ পেশায় নৈতিক চর্চারও উদাহরণ। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার জাতীয় প্রতিনিধিত্বে তাঁর দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা রিকার্দো গেলপি বলেছেন, মেসির ক্রীড়াগত সাফল্যের পরিসংখ্যান সবারই জানা। তবে এই সম্মানের মধ্য দিয়ে তারা এমন একজন মানুষকেও স্বীকৃতি দিতে চান, যিনি বিনয় ও অধ্যবসায়ের উদাহরণ এবং আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের একজন প্রতিনিধি ও দূত।

 

 

 

গেলপির ভাষায়, ‘মেসি সম্পর্কে সব আর্জেন্টাইনই জানেন। ক্রীড়াবিদ হিসেবে তিনি কতটা বড় সেটি প্রমাণের জন্য পরিসংখ্যান রয়েছে। তবে আমরা একজন বিনয়ী, অধ্যবসায়ী মানুষকেও সম্মান জানাতে চাই, যিনি আমাদের জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের একজন উদাহরণ এবং দূত।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘এই সম্মাননার মাধ্যমে আমরা একজন ব্যক্তির গুরুত্ব ও প্রভাবকেও তুলে ধরতে চাই। যিনি খেলাধুলা এবং খেলাধুলার বাইরেও অসাধারণ সফলতা অর্জন করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্বর উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।’

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমিলিয়ানো ইয়াকোবিত্তিও মেসির জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘মেসি আর্জেন্টিনার জার্সির মূল্যবোধ বিশ্বকে জানাতে পেরেছেন। সাহস ও সম্মানের সঙ্গে তিনি সেটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।’

 

 

তবে ইয়াকোবিত্তির মতে, এই ডক্টরেট শুধু মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের স্বীকৃতি নয়। এটি আর্জেন্টাইন সমাজের পক্ষ থেকে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতারও প্রকাশ।

 

 

সম্মানসূচক ডক্টরেট বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক পদবি। এবারই প্রথম কোনো ক্রীড়াবিদকে এই সম্মান দিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে অসাধারণ সাফল্য অর্জন এবং উৎকর্ষ ও মূল্যবোধের প্রভাবশালী উদাহরণ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের গুরুত্ব ও প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

 

 

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে দলটির জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় অধ্যায় লিখেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকাসহ একাধিক শিরোপা জিতে পেয়েছেন কিংবদন্তির স্বীকৃতি। এবার জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিতে মাঠে নামার আগেই তার অর্জনের তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি ব্যতিক্রমী সম্মান।