অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ১,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী এক বছর তার গাড়িতে এমন একটি ইন্টারলক ডিভাইস সংযুক্ত রাখতে হবে, যা চালকের শরীরে অ্যালকোহল শনাক্ত হলে গাড়ি চালু হতে দেবে না।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সিডনির ওয়েভারলি লোকাল কোর্টে ওয়ার্নারকে এই সাজা দেয়া হয়। গত মাসে তিনি অপরাধ স্বীকার করে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আবেদন করেছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ইস্টার সানডেতে। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) থেকে ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন ওয়ার্নার। সেখানে তিনি তিন গ্লাস ওয়াইন পান করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পৌঁছে দিতে নিজেই গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
পথে একটি র্যান্ডম ব্রেথ-টেস্টিং চেকপয়েন্ট দেখতে পেয়ে ওয়ার্নার গাড়ি থামিয়ে এক নারী যাত্রীর সঙ্গে আসন বদলানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তাকে চালকের আসনে শনাক্ত করে। পরীক্ষায় তার শরীরে বৈধ সীমার দুই গুণেরও বেশি অ্যালকোহল পাওয়া যায়। এরপর তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেন।
আদালত জানিয়েছে, গাড়িতে ওয়ার্নারের সন্তানরাও উপস্থিত ছিল, যা অপরাধটিকে আরও গুরুতর করেছে।
ওয়ার্নারের আইনজীবী আওয়াইস আহমাদ আদালতে যুক্তি দেন, এই ঘটনার কারণে তার মক্কেল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারের মুখে পড়েছেন। ইএসপিএন, আল জাজিরা ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার বাণিজ্যিক সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বিচারক ক্লেয়ার ফারনান ওয়ার্নারকে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন খেলোয়াড় হিসেবে তার কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রচার পাওয়া অপ্রত্যাশিত কোনো বিষয় নয়।
বিচারক আরও বলেন, পুলিশকে এড়িয়ে নিজের গাড়ি চালানোর বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা ওয়ার্নারের কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে না। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে ওয়ার্নার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু নিষ্ঠুর মন্তব্যও করা হয়েছে।
রায়ের ক্ষেত্রে বিচারক মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সতর্ক করার প্রয়োজনীয়তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ওয়ার্নারের পুনরায় একই ধরনের অপরাধ করার সম্ভাবনা কম হলেও নিউ সাউথ ওয়েলসে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখনো মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো।
এই ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে বিগ ব্যাশ লিগের দল সিডনি থান্ডারের অধিনায়কত্বেও। থান্ডার ও সিডনি সিক্সার্স; দুই দলই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ।
ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলস জানিয়েছে, তারা আদালতের রায়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং নিরাপদ গাড়ি চালানোর বিষয়ে তারা দৃঢ়ভাবে সচেতন। খেলোয়াড়দের নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের গুরুত্ব নিয়েও শিক্ষা দেয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ওয়ার্নার এখন ইন্টারলক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে গাড়িতে ডিভাইসটি সংযুক্ত করার পর আবার গাড়ি চালাতে পারবেন। এক বছর ধরে ডিভাইসটি তার গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে থাকবে।