ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। তার দাবি, ইনফান্তিনো ফুটবলের ‘মূল চেতনাই ধ্বংস করছেন’ এবং ফিফা সভাপতি হিসেবে তার সময় শেষ হয়ে গেছে। তেবাসের মতে, এখন ইনফান্তিনোর পদ ছাড়ার সময় এসেছে।
সম্প্রতি ফিফার প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনা এবং বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। একটি কোম্পানির মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়া এবং বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। তবে ব্যাপক সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাতিল করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ফিফা পরে জানায়, তারা ওই পরিকল্পনা আর এগিয়ে নেবে না। এরপর বুধবার বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে তাতেও তার বিরুদ্ধে সমালোচনা থামেনি। উয়েফা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংস্থা ইতোমধ্যে ফিফা সভাপতির পদত্যাগের দাবি তুলেছে।
এর মধ্যেই ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে। উয়েফা নিশ্চিত করেছে, তাদের এক নারী কর্মীকে ‘ডিপার্চার পেমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল। ওই নারী কর্মীর সঙ্গে ইনফান্তিনোর সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই দাবি অস্বীকার করেছেন ফিফা সভাপতি।
এবার ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিতে সরব হলেন তেবাসও। ২০১৩ সাল থেকে লা লিগার সভাপতির দায়িত্বে থাকা এই স্প্যানিশ কর্মকর্তা ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে মোঁদ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার কাছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।’
তেবাস আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে তিনি এমন মন্তব্য করছেন না। বরং দীর্ঘদিন ধরেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ধরন নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে।
তেবাস বলেন, ‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফুটবলের উন্নতিতে অবদান রাখছেন না। বরং তার প্রকল্পগুলো ফুটবলের মূল চেতনাই ধ্বংস করছে। ফুটবল শুধু অভিজাতদের জন্য নয়। আমার মনে হয়, ইনফান্তিনো যুগ শেষ।’
তবে এখন মূল প্রশ্ন, ইনফান্তিনোর অধ্যায়ের সমাপ্তি কবে এবং তার উত্তরসূরি কীভাবে নির্বাচিত হবে। তেবাস চান, শুধু একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে বসানো নয়, ফিফার কাঠামোতেই বড় ধরনের সংস্কার হোক।
তিনি বলেন, ‘আশা করি এটি শুধু কিছু মানুষকে সরিয়ে অন্যদের বসানোর বিষয় হবে না। সত্যিকারের পরিবর্তন ও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।’
অন্যদিকে, ইনফান্তিনোর সমালোচকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, তার বিরোধীরা নির্বাচনের মাধ্যমে নয়, বরং অন্যভাবে তাকে সরিয়ে দিয়ে সভাপতির কর্তৃত্ব দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
তবে সব পক্ষ যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে, তা নয়। মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
এদিকে ইনফান্তিনোর ক্ষমা চাওয়ার পরও বিশ্বকাপ বয়কটের ইউরোপীয় হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। তেবাসের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে অবাক করছে না। বরং এতদিন যারা নীরব ছিলেন, তাদের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াই তাকে বেশি অবাক করেছে।
তেবাসের ভাষায়, ‘এই ঘটনা আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। ফিফার ভেতরে এবং বৃহত্তর অর্থে ফুটবলজুড়েই অনেক কিছু ঘটে চলেছে, যেখানে প্রকৃত অর্থে কোনো কার্যকর সুশাসনব্যবস্থা নেই।’