Image description
ইংল্যান্ডের চেনা গ্রিন টার্ফ আর প্রিমিয়ার লিগের অ্যাকাডেমির আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে, সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কন্ডিশনে অ্যাডাম আব্বাস। যার ফুটবলীয় হাতেখড়ি হয়েছিল বিশ্বখ্যাত ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে। মায়ের সূত্রে লাল-সবুজের নাড়ির টানে, এবার তিনি যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় যুব ফুটবল প্রস্তুতি ক্যাম্পে।
 
শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে ইংল্যান্ড থেকে ঢাকায় পা রেখেই সময় নষ্ট করেননি ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বিকালেই ছুটে গেছেন দেশের অন্যতম ফুটবল তৈরির সূতিকাগার যশোরের শামসুল হুদা একাডেমিতে। ক্যাম্পে থাকা ফুটবলারদের সাথে যোগ দিয়ে নিয়েছেন সতীর্থদের উষ্ণ অভ্যর্থনা। যোগদানের পরেই তাকে নিয়েই তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। রবিবার ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে মাঠের নরম কাঁদা-মাটিতে একেবারেই নতুন সতীর্থদের সাথে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘাম ঝরান এই উইঙ্গার। বিদেশের ভিন্ন কন্ডিশন আর মাঠের বিপরীতে, প্রথম দিনেই অ্যাডাম আব্বাস সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বাংলার কাঁদা মাটির সাঙ্গে।
 
ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিন আর আব্বাসের অনুশীলনের প্রথম দিনই নতুন সতীর্থদের সাঙ্গে বুঝাপড়াটা ভালোই ছিলো। একদিনের ক্যাম্পের ব্যবধানে সতীর্থদের সাঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে দেখা গেছে। অনুশীলনে বেশ হাস্যোজ্জ্বলও দেখা গেছে।
 
আব্বাসের ড্রিবলিং স্কিল, পাস দেখে মুগ্ধ হন কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স। সব মিলিয়ে আব্বাস ছাড়াও পাঁচ প্রবাসী বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিয়ে নতুন কৌশল সাজাচ্ছেন এমলিন জোন্স। দেশে বিদেশির এই সমন্বয়ের একটি দল নিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব উতরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বিট্রিশ এই কোচ।
 
ঘণ্টা দুয়েক অনুশীলন শেষে এই ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স ও দলের নতুন মুখ এডাম আব্বাস। দুজনেই বিজয়ের মানসিকতা নিয়ে বহুদূর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কোচ জেরার্ড এমলিন জোন্স বলেন, ‘দীর্ঘ সময় অনুশীলনের মাধ্যমে দলের খেলোয়াড়দের সামর্থ্য ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়েছে। শুধু বর্তমান প্রতিযোগিতা নয়, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি চারটির বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। এসব ম্যাচে খেলোয়াড়েরা শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত অবস্থান এবং চাপের মধ্যে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। মাঠের পরিস্থিতি বা পিচ যেমনই হোক, তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে খেলোয়াড়দের স্ট্যামিনা ও ভারসাম্য বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ্য একটাই-ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দেশের জন্য সেরাটা দেয়া এবং জয় ছিনিয়ে আনা।
 
দলে নতুন যোগ দেয়া এডাম আব্বাসকে নিয়ে কোচ বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত পেশাদার, নম্র ও শেখার মানসিকতাসম্পন্ন একজন ফুটবলার। তাকে দক্ষ খেলোয়াড় ও গোলদাতা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।’
 
বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এডাম আব্বাস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে ফুটবলের মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। জাতীয় দল, কোচিং স্টাফ ও টেকনিক্যাল টিম যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করছে, তা প্রশংসনীয়।’
 
 
হামজা চৌধুরীর মতো ফুটবলারকে জাতীয় দলে খেলা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান এডাম। আসন্ন এএফসি এশিয়ান কাপসহ বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো করাই দলের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
 
কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া রয়েছে উল্লেখ করে এডাম বলেন, ‘সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর পরিশ্রমের ধারা বজায় রাখলে জাতীয় ফুটবল দল দেশকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।’
 
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, আগামি ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের তাসখন্দে হতে যাওয়া এই গ্রুপের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ম্যাচ তিনটি। ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তান, ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়া এবং ৬ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভারত। অনূর্ধ্ব-২০ দলের ক্যাম্পে প্রথমে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রবাসী ফুটবলার। তাদের মধ্যে ইতালিপ্রবাসী উইঙ্গার তানজিল ও সুইজারল্যান্ড প্রবাসী উইঙ্গার সাফওয়ান চোট নিয়ে আসায় ক্যাম্পে থাকতে পারেননি। কাগজপত্র গোছাতে সময় লাগবে বলে ইংল্যান্ড প্রবাসী কালিম ইসলামও ফিরে গেছেন। গত সাফে খেলা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান ও ডেকলান সুলিভানকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়পত্র না দেয়ায় এবারের ক্যাম্পে আনা যায়নি, পাশাপাশি ইংল্যান্ড থেকে আরও একজন ফুটবলারও আসতে পারেননি।
 
তাদের বাদ দিয়েই সব মিলিয়ে এখন ক্যাম্পে আছেন পাঁচজন প্রবাসী বা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফুটবলার। ইংল্যান্ডপ্রবাসীই তিনজন; ডিফেন্ডার জিদান ইউসুফ, স্ট্রাইকার মোহাম্মদ মাহি খান ও উইঙ্গার অ্যাডাম আব্বাস। অন্য দুজন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঈশান মালিক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ট্রাইকার ফারজাদ আফতাব।
 
দেড় মাস আগে দায়িত্ব নেয়া ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনসের অধীন যশোরের ক্যাম্পে আছেন একজন বিদেশি ফিটনেস ট্রেনার ও একজন গোলকিপিং কোচ। প্রাথমিকভাবে ডাক পাওয়া ৪৩ ফুটবলারের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে এখন ক্যাম্পে আছেন ২৬ জন। চূড়ান্ত দল হবে ২৩ জনের।
 
বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবারের অনূর্ধ্ব-২০ দল নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, যশোরে যুব দলের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। এবার আমরা এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ দলের চূড়ান্ত পর্বে কোয়ালিফাই করতে চাই এবং আমরা আশাবাদী।