Image description

ইউরোপের অনাস্থা, বিভিন্ন দেশের সমর্থন প্রত্যাহার এবং নিজের প্রশাসনের ভেতরে প্রকাশ্য অসন্তোষ। এত কিছুর পরও আপাতত ফিফা সভাপতির পদে টিকে যাচ্ছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মরক্কোয় দিনব্যাপী সংকটকালীন বৈঠকের পর তাকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

 

বুধবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ছিলেন ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম ও ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা। বৈঠক শেষে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, উপস্থিত কর্মকর্তারা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

 

সাম্প্রতিক সংকটের কেন্দ্রে ছিল ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রকল্প। ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে তার প্রায় ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তবে ফিফা কাউন্সিল, সদস্য দেশ ও আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

 

পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উয়েফাসহ বিভিন্ন মহাদেশীয় সংস্থা তীব্র বিরোধিতা করে। শেষ পর্যন্ত ব্যাপক চাপের মুখে প্রকল্পটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো।

 

রাবাতের বৈঠকে এই প্রকল্প ঘিরে ভুল হওয়ার কথা স্বীকার করেছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, কাউন্সিল ও ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার উদ্দেশ্য ছিল না। তবে পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে পরিচালনা করা উচিত ছিল। পরিকল্পনাটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর ফিফার প্রতিক্রিয়াতেও ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ফিফা কাউন্সিল ও সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে আলাদাভাবে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে দেওয়া হয়েছে প্রতিশ্রুতি। পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে পরবর্তী ফিফা কাউন্সিল সভায় একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

 

ইনফান্তিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বৈঠকে তার ও মহাসচিব গ্রাফস্ট্রমের অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ফিফার সততা ও সুনামের ওপর আক্রমণ সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

 

গ্রাফস্ট্রম নিজেও ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকে জানতেন না। কয়েক দিন আগেই ফিফা কর্মীদের পাঠানো চিঠিতে পুরো ঘটনাকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে বর্ণনা করেছিলেন তিনি। সেই গ্রাফস্ট্রমের সমর্থন পাওয়াকে ইনফান্তিনোর জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

তবে ফিফার অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব পাশে দাঁড়ালেও বাইরের চাপ কমেনি। উয়েফা ইতোমধ্যে তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছে। ওয়েলস সমর্থন প্রত্যাহার করেছে এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একই পথে হাঁটছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফও পুরো ঘটনার জরুরি ব্যাখ্যা চেয়েছে।

 

আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা। ইনফান্তিনোর বিপক্ষে প্রার্থী দিতে চাইলে ১৮ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। রাবাতের বৈঠকের পর নিজের প্রশাসনের ভেতরের তাৎক্ষণিক সংকট সামলাতে পারলেও নির্বাচনের আগে তাঁর বিরোধিতা থামছে না।