ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লড়াই। প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করা এই দুই মহাতারকার দ্বৈরথকে এবার ফুটবলের সেরা অধ্যায়গুলোর একটি বলে অভিহিত করেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে।
২০১০ বিশ্বকাপজয়ী এই স্প্যানিশ তারকা মনে করেন, মেসি ও রোনালদোর অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আধুনিক ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসেও দুই তারকার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার সক্ষমতা তাকে মুগ্ধ করেছে।
কিংস লিগের এক অনুষ্ঠানে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে মেসি ও রোনালদো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ফুটবল দক্ষতা দিয়ে অবিশ্বাস্য এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিয়েছেন। এখন তারা ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তারপরও এই বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি, তারা এখনও বড় মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর ক্ষমতা রাখে।’
ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মেসি ও রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে। মেসি তার অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলতা ও ক্ষুদ্র পরিসরে ড্রিবলিং দক্ষতার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে রোনালদো গতি, শারীরিক শক্তি, নিখুঁত ফিনিশিং ও গোল করার দুর্দান্ত সামর্থ্যের মাধ্যমে নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতায় পরিণত করেছেন।
এই ভিন্নধর্মী দুই ফুটবল দর্শনই প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিয়েছে। নিজেদের স্বতন্ত্র দক্ষতা ও ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তারা ফুটবলে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের ভিন্ন ভিন্ন পথও দেখিয়েছেন।
তবে পিকের কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার একজনই—লিওনেল মেসি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপেও মেসি আবার প্রমাণ করেছে যে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় সে-ই।’
যদিও এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা শিরোপা জিততে পারেনি, তবুও পুরো টুর্নামেন্টে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি আটটি গোল করেছেন, চারটি গোলে সহায়তা করেছেন এবং দলের আটটি ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন।
মেসির অবদান নিয়ে পিকে বলেন, ‘সে অনেক গোল করেছে এবং দলকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে না পারলেও, তার অর্জন নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো।’