Image description

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইশোস্পিড’-এর একটি অদ্ভুত দুর্নাম রয়েছে। তিনি যে দলের জার্সিই গায়ে চাপান না কেন, সেই দলই হারের মুখে পড়ে। এ কারণে ভক্তরা তাকে ফুটবলের ‘জ্যান্ত অভিশাপ’ বা ‘জিনক্স’ বলে ডাকেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেই স্পিড হাজির হয়েছিলেন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই— আর্জেন্টিনাকে হারানো। তবে মাঠের খেলায় সেই অভিশাপ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, বরং উল্টো চরম হতাশায় ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়েছে এই স্ট্রিমারকে।

কানসাস সিটির গ্যালারিতে স্পিডকে দেখা গেছে অদ্ভুত আচরণ করতে। একদিকে তিনি আর্জেন্টিনার জার্সি পরে দলকে সমর্থন দেওয়ার ভান করছিলেন, অন্যদিকে গোল খাওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন অস্থির। ম্যাচের শুরুতেই আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে যখন আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেল, তখন স্পিডকে ক্যামেরার সামনে চরম হতাশ হয়ে বলতে শোনা যায়, ‘কী হচ্ছে এগুলো? কিছুই কাজ করছে না! কী করতে হবে আমাকে?’

ম্যাচ যত এগিয়েছে, স্পিডের ছটফটানি ততই বেড়েছে। সুইজারল্যান্ড যখন সমতায় ফিরল, তখন তিনি গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন। কিন্তু ড্যান এনদোয়ের সেই গোলই ছিল সুইজারল্যান্ডের শেষ আনন্দ। অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ যখন আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করলেন, তখন গ্যালারিতে স্পিডের মুখ শুকিয়ে যায়। আর লাউতারো মার্তিনেস যখন তৃতীয় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করলেন, তখন আর মাঠে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পাননি এই স্ট্রিমার। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তিনি স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যান।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পিড যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই তার সমর্থিত দল হেরেছে। এই ‘অভিশাপ’ থেকে বাঁচতে গত কয়েক ম্যাচে তিনি দুই দলের জার্সি মিলিয়ে গায়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি সরাসরি আর্জেন্টিনার জার্সি বেছে নিয়েছিলেন। ভক্তদের ধারণা ছিল, হয়তো আজ মেসিদের বিদায় ঘণ্টা বেজেই যাবে। তবে মাঠের ফুটবলে মেসি ও তার দল প্রমাণ করেছে যে, কোনো ‘অভিশাপ’ বা কুসংস্কারই তাদের সেমিফাইনাল যাত্রাকে রুখতে পারবে না।