বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে পর্তুগালকে ফুটবল বোদ্ধারা শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে গণ্য করেছিলেন, গ্রুপ পর্ব শেষেই যেন তারা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের মধ্যে একমাত্র তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছাড়া বাকি কোনো ম্যাচেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। দলের এমন নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন রোনালদোর সাবেক সতীর্থ রিকার্ডো কারেজমা।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারেজমা দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, মাঠের খেলায় ফুটবলারদের মাঝে কোনো আনন্দ বা স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে না।
কারেজমা বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে দলটি আনন্দে নেই। তারা খেলাটি উপভোগ করছে না। তাই খেলায় সে মজাটা দেখা যাচ্ছে না। নতুন কিছু করার চেষ্টা করছে না। সেখানেই সমস্যা হচ্ছে।’ সাবেক এই পর্তুগিজ উইঙ্গারের মতে, দলটিকে মাঠে অত্যন্ত ক্লান্ত দেখাচ্ছে এবং খেলোয়াড়দের মাঝে জেতার সেই চিরচেনা মানসিকতার অভাব স্পষ্ট।
একটা সময় মাঠের খেলায় কারেজমার পাস থেকে অসংখ্য গোল করেছেন রোনালদো। কিন্তু সময়ের নিয়মে সিআর সেভেনের ধার যে কিছুটা কমেছেÑতা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। রোনালদোকে নিয়ে কারেজমা বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানোর বয়স বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আগের ক্রিশ্চিয়ানোকে পাওয়া যাবে না। তার জন্য বাকিদের দায়িত্ব নিতে হবে। এখনো যদি ওর ওপরই নির্ভর করতে হয়, তাহলে মুশকিল।’
দলের কৌশলগত ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ‘খেলায় কোনো সৃজনশীলতা চোখে পড়ছে না। মনে হচ্ছে, মুখস্থ করে নেমেছে সবাই। যা শেখানো হয়েছে, সেটাই করছে। তার বাইরে কিছু করার তাগিদ নেই।’
চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগালের শুরুটা মোটেও আশানুরূপ ছিল না। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ গোলের বড় জয় পেয়েছে। এ ম্যাচে রোনালদো করেন জোড়া গোল। গ্রুপের শেষ ও তৃতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে করে গোলশূন্য (০-০) ড্র।
শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার ডেভিনসন সাঞ্জেজ পর্তুগালের জালে বল পাঠালেও সামান্য মার্জিনে অফসাইড হওয়ায় সেটি বাতিল হয়। অন্যথায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটিতে হারের স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হতো সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নদের।
‘কে’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করায় নকআউটের পথটা পর্তুগাল নিজেদের জন্যই কঠিন করে তুলেছে। রাউন্ড অব বত্রিশে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ২০১৮ সালের রানার্সআপ ও ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্ট শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার।
ক্রোয়েশিয়া বাধা পার হতে পারলে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে পড়তে পারে আরেক পরাশক্তি স্পেন। সব মিলিয়ে কারেজমার এই সতর্কবার্তা আমলে নিয়ে পর্তুগাল যদি দ্রুত নিজেদের খেলার ধরন পরিবর্তন করতে না পারে, তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যেতে পারে রোনালদোদের।