২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম হৃদয়স্পর্শী গল্পটি এক নতুন ও আবেগঘন রূপ নিল। স্পেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা কেপ ভার্দে দলের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জোসিমার জোসে ইভোরো দিয়াস (যিনি ফুটবল বিশ্বে ‘ভোজিনহা’ নামে পরিচিত), অবশেষে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে গ্যালারিতে নিজের মায়ের উপস্থিতি দেখতে পেলেন।
কয়েক দিন আগেই ভোজিনহা অশ্রুসিক্ত চোখে প্রকাশ করেছিলেন যে, তার মা আনা কান্দিদা ইভোরা কখনো কেপ ভার্দে ছেড়ে বাইরে যাননি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ছেলের খেলা দেখার মতো পাসপোর্ট বা ভিসার খরচও তাদের ছিল না। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে এক বিশাল সাড়া জাগে।
উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের সময় সম্প্রচারকারী ক্যামেরায় বারবার গ্যালারিতে বসা আনা ইভোরাকে দেখানো হচ্ছিল।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশ্বমঞ্চে অভিষেক ঘটে আফ্রিকার ছোট দেশ কেপ ভার্দের। সেই ম্যাচে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্পেনের তারকাখচিত আক্রমণভাগকে একাই রুখে দেন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। লামিনে ইয়ামালদের মোট ৭টি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়ে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন এবং দলকে এনে দেন ঐতিহাসিক এক ড্র। এই এক ম্যাচেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ফলোয়ার সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে লাফিয়ে মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়ে ভোজিনহা আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ক্যারিয়ারের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তিনি তার প্রয়াত দাদা-দাদি এবং মাকে বড্ড মিস করছেন। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি এবং প্রায় ১৫ হাজার ডলারের সিকিউরিটি বন্ডের কারণে তার মায়ের পক্ষে টিকিট থাকা সত্ত্বেও আমেরিকা আসা সম্ভব হয়নি।
ভোজিনহার এই আবেগী বক্তব্য স্পর্শ করে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসকে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্ত ফি মওকুফসহ আনা ইভোরার ভিসার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে আনা ইভোরার পাসপোর্ট তৈরি করা হয় এবং প্রায় ২৪ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এসে পৌঁছান।
মায়ের উপস্থিতির এই অনুপ্রেরণা মাঠেও কাজে লেগেছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও দুর্দান্ত লড়াই করে ২-২ গোলের ঐতিহাসিক ড্র আদায় করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। ম্যাচ শেষে ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনা ইভোরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমার হৃদয় যেন মুখের কাছে চলে এসেছিল। এটা অবিশ্বাস্য সুন্দর এক অনুভূতি। আমি কেপ ভার্দে এবং যারা আমাদের বিশ্বাস করেছে, তাদের সবার জন্য গর্বিত।’