বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরের কালিকাপুর মহল্লায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন জার্মানপ্রবাসী সাগর কুলেন্তুনুর (৩৬)। তিন বিঘা আয়তনের বাড়ির পুরো আঙিনা তিনি সাজিয়েছেন জার্মান পতাকার লাল, কালো ও হলুদ রঙে। জার্মান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতি, ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ, ছোট-বড় জার্মান পতাকা ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় বাড়িটি ইতিমধ্যে এলাকায় ‘জার্মান বাড়ি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
সাগর কুলেন্তুনুর একই এলাকার সুবাস কুলেন্তুনুরের ছেলে। তিনি জার্মানির ডর্টমুন্ডের একটি হাসপাতালে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি জার্মানিতে বসবাস করছেন। নিজের দেশের প্রতি মমত্ববোধের পাশাপাশি জার্মান সংস্কৃতির প্রতিও গভীর অনুরাগ থেকেই তাঁর এই আয়োজন।
কালিকাপুর মহল্লায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে লাল-কালো-হলুদে মোড়ানো বাড়িটি। বাড়ির সামনের খোলা জায়গাকে ফুটবল মাঠের আদলে সাজানো হয়েছে। দুই পাশে গোলপোস্ট, মাঠজুড়ে জার্মান দলের খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতি এবং মাঝখানে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ-২০২৬-এর প্রতীকী মঞ্চ। সেখানে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফির অবয়ব। চারদিকে উড়ছে ৪০টি জার্মান পতাকা, পাশাপাশি উড়ছে বাংলাদেশের ১০টি জাতীয় পতাকা। মাঠসংলগ্ন দুই শতাধিক গাছের গোড়াও একই রঙে রাঙানো হয়েছে। বসতবাড়ির প্রতিটি অংশে ফুটে উঠেছে জার্মান পতাকার রঙের ছাপ। দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে চা-কফির ব্যবস্থাও। রাতের বেলায় আলোকসজ্জা বাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তবে নিরাপত্তার কারণে রাতে দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।
দর্শনার্থী সাদেকুন নবী জানান, তিনি ফেসবুকে জার্মান বাড়ির ছবি দেখে সিরাজগঞ্জ থেকে সরাসরি দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, বাড়িটি দেখে তিনি মুগ্ধ ও বিস্মিত হয়েছেন।
বনপাড়া সেন্ট যোশেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরলীন ডি কস্তা বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। তবু জার্মান দলের সমর্থনে সজ্জিত জার্মান বাড়ি দেখতে আসার লোভ সামলাতে পারিনি। সাজসজ্জাটি সত্যিই নান্দনিক।’
সাগরের মা কানন গমেজ বলেন, ‘এক যুগ আগে সাগরের বাবা মারা গেছেন। তিন ছেলের মধ্যে সাগর মেজ। সে ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে প্যাথলজিতে ডিপ্লোমা ও সাধারণ শিক্ষায় স্নাতক (সম্মান) পাস করে। পরে সে বাহরাইনে চাকরি নিয়ে চলে যায়। এরপর ২০১৬ সালে বাহরাইন থেকে জার্মানিতে যায়। ২০২৩ সালে সে যশোরে বিয়ে করে। বিয়ে উপলক্ষেও বাড়িটি জার্মান সাজে সাজানো হয়েছিল।’
মা আরও বলেন, ‘সাগর ভিডিও ফোনে কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে বাড়িটি তার মনের মতো সাজিয়েছে। বহু মানুষ এখন দেখতে আসছে। এতে আমি দারুণ আনন্দ পাচ্ছি। আমি নিজেও জার্মান ফুটবল দলের সমর্থক হয়ে গেছি। দলটির সাফল্য কামনা করছি।’