Image description

‘বিশ্বকাপ কারাগার'— নামটি শুনলে অনেকে চমকে উঠতে পারেন। কিন্তু বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এমনি এক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার ব্যয়ে একটি অস্থায়ী আটক কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি। টুর্নামেন্ট চলাকালীন যেকোন সম্ভাব্য অপরাধের কথা মাথায় রেখে এই পরিকল্পনাটি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এই কারাগার চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিশ্বকাপের উত্তাপের মাঝে শহরটি এখন রাজনৈতিক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।

১০০ শয্যার এই আটক কেন্দ্রটি ১ জুনের মধ্যে চালু হওয়ার কথা ছিল — আরোহেড স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচের ঠিক পনেরো দিন আগে। কিন্তু সরবরাহ শৃঙ্খলে বিলম্ব ও জনবল সংকটের কারণে প্রকল্পটি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে। শহরের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপ চলাকালীন এই কেন্দ্রে কোনো বন্দী রাখা যাবে না। অথচ বিশ্বকাপের জন্যই এই কারাগারটি নির্মাণ করার কথা ছিলো।

২০০৯ সাল থেকে কানসাস সিটিতে কোনো পৌর কারাগার নেই। বর্তমানে কাউকে গ্রেফতার করা হলে পুলিশকে ৫০ মাইলেরও বেশি দূরের জনসন বা ভার্নন কাউন্টির কারাগারে নিয়ে যেতে হয়। বিশ্বকাপে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর আগমনের কথা মাথায় রেখে সিটি ম্যানেজার মারিও ভাসকেজ, সহকারী সিটি ম্যানেজার জেফ মার্টিন এবং কাউন্সিলম্যান ওয়েস রজার্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে এই প্রকল্পকে টুর্নামেন্টের সঙ্গে জুড়ে দেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কাউন্সিল সভায় রজার্স বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপ আসছে, আমরা প্রস্তুত থাকি বা না থাকি — তাই এটা বানাতেই হবে।’

পরিকল্পনা ছিল, এই অস্থায়ী কেন্দ্র সর্বোচ্চ পাঁচ বছর চলবে এবং এরপর ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি স্থায়ী কারাগার নির্মাণ করা হবে।

তবে এখন রজার্সের ভাষ্য বদলে গেছে। সম্প্রতি দ্য অ্যাথলেটিককে তিনি বলেছেন, প্রকল্পটি বিশ্বকাপের সঙ্গে খুব একটা জোরালোভাবে সম্পর্কিত নয় এবং টুর্নামেন্টটি মূল গল্পের একটি "পাদটীকা" মাত্র। এই কেন্দ্রটি কেবল ছোটখাটো অপরাধের জন্যই ব্যবহারের কথা ছিল — গুরুতর মামলা এখানে আসত না।

স্থানীয় অধিকার সংগঠন ডিকার্সেরেট কেসির ডিলান পাইলস বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরেছেন। তার মতে, ‘বিশ্বকাপকে ব্যবহার করা হয়েছিল জনসমর্থন আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে। শহরবাসীকে এই ধারণা দিয়ে বিক্রি করা হয়েছিল যে এটা বিশ্বকাপের জন্যই। তাই এখন মনে হচ্ছে, অর্থ, সময় আর শ্রম — সবই কিছুটা বৃথা গেল।’