Image description

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। ডান পায়ের কাফ ইনজুরি থেকে দ্রুত সেরে উঠতে এবার তিনি ব্যবহার করছেন নাসার প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত বিশেষ এক যন্ত্র। এই আধুনিক পুনর্বাসন পদ্ধতিই তার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এসপোর্তে জানিয়েছে, নেইমারের পুনর্বাসনে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল’। গত শনিবার তিনি এই বিশেষ ট্রেডমিলে অনুশীলনও করেছেন। নাসার প্রযুক্তি থেকে তৈরি এই যন্ত্র শরীরের আংশিক ওজন কমিয়ে দেয়। ফলে দৌড়ানোর সময় ইনজুরিগ্রস্ত পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং খেলোয়াড় তুলনামূলক নিরাপদভাবে অনুশীলন করতে পারেন।

এই ধরনের প্রযুক্তি গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াবিদদের পুনর্বাসনে ব্যবহার হচ্ছে। ব্রাজিলের কিছু ক্লাবও এখন তাদের মেডিকেল সেন্টারে এই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে।

নেইমারের ফিটনেস নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো চলমান মেডিকেল পরীক্ষা। সোমবার (৮ জুন) তার শরীরের ইমেজিং পরীক্ষা আবার করা হবে। এই পরীক্ষার ফলের ওপরই নির্ভর করছে তার পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা।

চিকিৎসকরা সবুজ সংকেত দিলে তাকে ধাপে ধাপে বল নিয়ে অনুশীলনের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে তিনি মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে পারবেন কি না।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি নেইমারের পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী। তবে দলের মেডিকেল স্টাফ এখনো তাকে পুরোপুরি ফিট ঘোষণা করেনি। ফলে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ব্রাজিল দল ও সমর্থকদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন নেইমারের ফিটনেস। হেক্সা মিশনে নামার আগে তার সুস্থতা নিশ্চিত করতেই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেলেসাও ম্যানেজমেন্ট। পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখন তার মেডিকেল রিপোর্টের দিকে—শেষ পর্যন্ত কি নেইমার মাঠে ফিরতে পারবেন, সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।