Image description

দীর্ঘদিন পর আবারও টেস্ট সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুমিনুল হক। সবশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে শতরান করেছিলেন তিনি।

এরপর কেটে গেছে প্রায় ২০ মাস। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে সেই অপেক্ষা ঘোচানোর দারুণ সুযোগ ছিল।
কিন্তু মাত্র ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। আর সেই আক্ষেপ নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলে স্ত্রীকে টেনে মন্তব্য করলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

শুক্রবার মিরপুরে ধৈর্য্য আর নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে ইনিংস গড়ছিলেন মুমিনুল। বিশেষ করে শেষ সেশনে কিছুটা ধীরগতিতে খেললেও মনে হচ্ছিল, সেঞ্চুরিটা বুঝি পেয়েই যাবেন।

তবে নোমান আলির নিচু হয়ে যাওয়া এক ডেলিভারি তার স্বপ্ন ভেঙে দেয়। বল প্যাডে লাগার পর আম্পায়ার আউট দেন। মুশফিকুর রহিমের পরামর্শে রিভিউ নিলেও শেষরক্ষা হয়নি। ১৯৯ বলে ১০টি চারে ৯১ রান করে থামতে হয় তাকে।

এ নিয়ে সর্বশেষ ২১ ইনিংসে চতুর্থবার নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে সেঞ্চুরি মিস করলেন মুমিনুল। এর আগে তার ইনিংসগুলো ছিল ৮২, ৬৩, ৮৭ ও ৯১ রানের। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই হাস্যরসের সুরে তিনি বলেন, ‘আক্ষেপ খুব একটা হয় না। তবে আজকে একটু খারাপ লাগছে। কারণ বাসায় গেলে বউ হয়তো বকা দেবে। তবে সত্যি বলতে, আমার কাছে ব্যক্তিগত শতরানের চেয়ে দলের জন্য নিয়মিত রান করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

নিজের ব্যাটিং মানসিকতা নিয়েও কথা বলেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। মুমিনুল জানান, এখন তিনি অতিরিক্ত চিন্তা না করে ব্যাটিংটা উপভোগ করার চেষ্টা করছেন। ‘সেঞ্চুরি তো সবাই করতে চায়। আমিও চাই। তবে এখন আমি নিজের ব্যাটিং উপভোগ করি। বেশি চিন্তা না করে স্বাভাবিক পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চাই। আমার মূল লক্ষ্য থাকে নিজের প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা।’

দিনের শেষ সেশনে কিছুটা ধীরগতিতে খেলার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। মুমিনুলের মতে, তখন ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। ‘আমার মনে হয় না আমি খুব ধীরে খেলেছি। তখন আসলে বাড়তি তাড়াহুড়োর দরকার ছিল না। আমরা চেয়েছিলাম আরও কিছু সময় উইকেটে থাকতে। বোলাররা ভালো বল করছিল, আমি স্বাভাবিক ক্রিকেটই খেলছিলাম। কিন্তু একটি বল নিচু হয়ে যাওয়ায় আউট হয়ে যাই।’

এই ম্যাচে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১৭০ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তৃতীয় উইকেট জুটি। শান্তর ব্যাটিংয়েরও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

মুমিনুল বলেন, ‘আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন অন্য প্রান্তে বড় খেলোয়াড়দের ব্যাটিং উপভোগ করতাম। আমার চোখে শান্তর এই ইনিংস তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। সে এখন দুর্দান্ত ফর্মে আছে। শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড সিরিজেও রান করেছে। চাপের মধ্যেও যেভাবে ব্যাট করছে, সেটা সত্যিই অসাধারণ।’