গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অবিসংবাদিত পোস্টার বয় তিনি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে তার খেলা যেন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠল। বিশ্বখ্যাত প্যানিনি স্টিকার অ্যালবামের ৯৮০টি স্টিকারের তালিকায় জায়গা হয়নি এই মহাতারকার। গত চারটি আসরে নিয়মিত থাকলেও এবারই প্রথম বিশ্বকাপের এই আইকনিক সংগ্রহশালা থেকে বাদ পড়লেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
একের পর এক ইনজুরি আর ফর্মহীনতার কারণে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির গুডবুকে জায়গা পাননি নেইমার। আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্রাজিলের কোনো স্কোয়াডেও তার জায়গা হয়নি। আসন্ন বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে আনচেলত্তি তাকে শতভাগ ফিট হওয়ার শর্ত দিয়েছেন। একইসঙ্গে মাঠে পারফর্মও করতে হবে। এ কারণেই কি প্যানিনি স্টিকার থেকে বাদ পড়লেন নেইমার?
শনিবার অ্যালবাম প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নেইমারের বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে প্যানিনি। মূলত গাণিতিক পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করেই তৈরি করা হয় এই তালিকা। ব্রাজিলের ১৮টি স্টিকারের মধ্যে নেইমারের জায়গা না পাওয়া প্রসঙ্গে প্যানিনি ব্রাজিলের প্রধান নির্বাহী রাউল ভালেসিলো জানান, ‘জাতীয় দলে খেলোয়াড়দের ডাক পাওয়া এবং বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা যাচাই করে স্টিকারের জন্য নির্বাচন করা হয়।’
ভালেসিলো আরও বলেন, ‘আমাদের একটি বিভাগ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় দলের স্কোয়াডগুলো পর্যবেক্ষণ করে। যারা সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে খেলছেন না বা পারফরম্যান্স আশানুরূপ নয়, তাদের অ্যালবামে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়। নেইমার যেহেতু দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে, তাই পরিসংখ্যানের বিচারে তিনি বাদ পড়েছেন।’
প্যানিনি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির কাছ থেকে। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন তিনি। শোনা যাচ্ছে, আনচেলত্তি খেলোয়াড়দের শারীরিক ফিটনেসের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, আর এখানেই পিছিয়ে পড়েছেন বর্তমানে সান্তোসে খেলা নেইমার।
ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী তারকা রাই-ও একই সুর মিলিয়েছেন। তার মতে, নেইমার এখন আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় গতি ও ফিটনেস ধরে রাখতে পারছেন না, ‘নেইমার এখনো একজন বড় তারকা এবং তার পাসিং অসাধারণ। কিন্তু ইনজুরির কারণে সে আগের গতি হারিয়েছে। আনচেলত্তি বুদ্ধিমান কোচ। তিনি দলের ওপর নেইমারের প্রভাব যাচাই করে দেখবেন। বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নেইমারের দলে থাকা কঠিন।’