বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ‘আমদানি’ তালিকায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে ট্রেভর ইসলামের নাম। শুক্রবার বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম নিজের সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী স্ট্রাইকার ট্রেভরের পুরোপুরি বাংলাদেশি হতে আর খুব বেশি দেরি নেই।
বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল ট্রেভর ইসলামের নাম। ২০০৪ সালে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মিল ভ্যালিতে। দাদা বাংলাদেশি ছিলেন, সেই সূত্রেই তার শরীরে বইছে এ দেশের রক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফুটবল দল স্ট্যানফোর্ড কার্ডিনালের হয়ে খেলছেন। গত বছর তিনি তিনি আটলান্টিক কোস্ট কনফারেন্সের কো-অফেন্সিভ প্লেয়ার অফ দ্য উইক নির্বাচিত হয়েছিলেন।’
স্ট্যানফোর্ডের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে নিয়মিত গোলের রেকর্ড আছে তার। ডি বক্সের ভেতরে গোল করার দক্ষতার কারণে তাকে সতীর্থরা আদর করে ডাকেন ‘ফক্স ইন দ্য বক্স’। এ সব কারণেই ট্রেভরকে ঘিড়ে জাতীয় দলে গোল খড়া কাটানোর স্বপ্ন দেখছেন অনেক ভক্ত।
তাদের জন্য শুক্রবার সুখবর নিয়ে হাজির হন ফাহাদ করিম। যদিও ট্রেভরের সঙ্গে এ দেশ থেকে প্রাথমিক যোগাযোগ করেছিল খেলোয়াড়দের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কনফিয়েনজা।
তবে গত নভেম্বরে ট্রেভরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হওয়ার দাবি করেছেন ফাহাদ করিম, 'গত বছর ডিসেম্বরের দিকে আমাকে জায়ন আহমেদের বাবা শরিফ ভাই জানান, ট্রেভর ইসলাম ফেডারেশনের কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান বাংলাদেশের পক্ষে খেলার জন্য। তার সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম। ডিসেম্বরের ১২ তারিখে তার সঙ্গে আমার প্রথম হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়। গতকাল রাতেও মেসেজিং হয়েছে। ডিসেম্বরে তার সম্মতি নিয়ে আমরা ডকুমেন্টেশনের কাজ শুরু করি এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি তার এবং তার গ্র্যান্ড ট্যালেন্টদের জন্ম সনদ আমরা প্রস্তুত করে ফেলেছি। অতি শীঘ্রই আমরা ওর পাসপোর্ট আবেদনের ব্যবস্থা করবো লস অ্যাঞ্জেলসে কনসুলেট অফিসে। আশা করছি মে মাসের মধ্যে সে পাসপোর্ট পেয়ে যাবে।'
এখনই অবশ্য ট্রেভরকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ফাহাদ বলেন, 'ট্রেভর আমাকে প্রথমেই বলেছিল যে এ বছর ওর জন্য ভেরি ডিফিকাল্ট হবে বাংলাদেশে খেলা কারণ ওর পড়াশোনার যে কমিটমেন্ট এবং এনসিএ লিগে ইউনিভার্সিটি দলের প্রতি যে কমিটমেন্ট, সে কারণে তার পক্ষে এ বছর কঠিন হবে। তারপরও আমরা চাই যাতে সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে তাকে পেতে। না হলে আগামী বছর অবশ্যই তিনি বাংলাদেশের জার্সিতে খেলবেন।'
হামজা চৌধুরী, শামিত সোমদের দেখে অনেকেই এখন বাংলাদেশের জার্সিতে খেলতে চাইছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ট্রেভরও নিজ আগ্রহেই চেয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে খেলতে। আমদানি তত্ত্বে মুক্তি খোঁজা বাফুফে কর্তারাও এ নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস। তাই সতীর্থদের প্রিয় "ফক্স ইন দ্য বক্স"-এর লাল-সবুজ জার্সি পড়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।