প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জটিল ও দুরূহ সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে একটি বিশেষায়িত ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটার’ তৈরির কাজ। গত বৃহস্পতিবার দেশটির মোরেটন বে এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঐতিহাসিক প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এটি বাস্তবায়নে কাজ করছে মার্কিন স্টার্টআপ কোম্পানি ‘সাইকোয়ান্টাম’।
চিকিৎসা, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম এ প্রযুক্তি। এটি সফল হলে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবে অস্ট্রেলিয়া।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক এই কোয়ান্টাম কম্পিউটিং কোম্পানিটি অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার, কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। আশা করা হচ্ছে, এই প্রকল্পটি উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তির একটি প্রধান কেন্দ্র বা হাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার চলমান প্রচেষ্টার অন্যতম অংশ হয়ে উঠবে।
এই স্থাপনাটি কয়েকটি ধাপে তৈরি করা হবে। সাইকোয়ান্টামের ‘ফটোনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আর্কিটেকচার’ বা প্রযুক্তিকাঠামো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পরিকাঠামো বা অবকাঠামো থাকবে এই কেন্দ্রে। এই নির্মাণস্থলে আসা প্রথম বড় ও প্রধান অংশগুলোর একটি হবে বিশাল আকারের একটি ক্রায়োজেনিক প্ল্যান্ট। এটি মূলত কোয়ান্টাম সিস্টেমটিকে ঠাণ্ডা রাখার জন্য ডিজাইন বা তৈরি করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, জনসংখ্যায় ছোট হলেও কোয়ান্টাম পদার্থবিদের সংখ্যার দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া বেশ এগিয়ে। দক্ষ বিজ্ঞানীদের বিশাল উপস্থিতির কারণে দেশটিকে এই প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সাইকোয়ান্টাম জানিয়েছে, লিন্ডে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৈরি এই ক্রায়োপ্ল্যান্টটি ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে নির্মাণস্থলে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোম্পানিটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে এই কুলিং সিস্টেমটির অর্ডার দিয়েছিল। এটিকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ইতিহাসে ব্যবহার করা এযাবৎকালের অন্যতম বৃহত্তম ক্রায়োজেনিক কুলিং প্ল্যান্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমকে এ প্রকল্প নিয়ে সাইকোয়ান্টামের অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী ভিক্টর পেং বললেন, বাস্তব পৃথিবীর জটিল সমস্যা সমাধানের উপযোগী একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। তবে মোরেটন বে শহর এ কাজটিকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রী টিম আয়ারস এ প্রকল্পকে একটি বড় জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এ উদ্যোগের ফলে আগামী দিনের এমন জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি যেমন অস্ট্রেলিয়াতেই তৈরি হবে, তেমন এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এ লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় এবং কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকার যৌথভাবে ৯৪ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের (প্রায় ৯৪০ মিলিয়ন) বিশাল তহবিল বরাদ্দ করেছে।