অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্টফোন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা এখন তুঙ্গে। প্রযুক্তিপ্রেমীদের অপেক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং অ্যাপলের সম্ভাব্য প্রথম ফোল্ডিং আইফোন। এরই মধ্যে ডব্লিউডব্লিউডিসি ২০২৬ শুরু হওয়ায় নতুন আইফোন সিরিজের উন্মোচন ও বাজারে আসার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনেই ডেভেলপারদের জন্য আইওএস ২৭-এর প্রথম বেটা সংস্করণ উন্মুক্ত করেছে অ্যাপল। একই সঙ্গে আগামী জুলাইয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পাবলিক বেটা সংস্করণ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত কয়েক বছরের সময়সূচির সঙ্গে এ বছরের পরিকল্পনার মিল থাকায় প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন আইফোন উন্মোচনের প্রস্তুতিও নির্ধারিত ছকেই এগোচ্ছে।
বিগত বছরগুলোর ধারা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই অ্যাপল তাদের বহুল প্রতীক্ষিত আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ১৮ সিরিজের মূল কি-নোট ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘লেবার ডে’ ছুটির সময়সূচিও এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, উন্মোচনের দুই দিন পর অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হতে পারে আইফোন ১৮ সিরিজের প্রি-অর্ডার বা আগাম বুকিং।
অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আইওএস ২৭-এর চূড়ান্ত সংস্করণও উন্মুক্ত করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৪ বা ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আইফোন ১১ এবং পরবর্তী মডেলের ব্যবহারকারীরা নতুন সফটওয়্যার আপডেট ডাউনলোড করতে পারবেন। একই সময়ে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের রিভিউ ও মূল্যায়নও প্রকাশ হতে শুরু করবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বিক্রি শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধেই নতুন আইফোন হাতে পাওয়ার সুযোগ মিলতে পারে গ্রাহকদের।
তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ডিভাইসটি ‘আইফোন আল্ট্রা’ নামে বাজারে আসতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি অ্যাপল।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোল্ডিং ডিসপ্লের জটিল উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে এই মডেলটির বাজারে আসতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। ফলে আইফোন ১৮ সিরিজের সঙ্গে ঘোষণা করা হলেও এটি হয়তো পরে বাজারে ছাড়া হবে।
এর আগে ২০১৭ সালে আইফোন এক্স উন্মোচনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছিল অ্যাপল। ডিভাইসটি মূল অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হলেও বাজারে আসে কয়েক সপ্তাহ পর। সম্ভাব্য ফোল্ডিং আইফোনের ক্ষেত্রেও একই কৌশল অনুসরণ করা হতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
তবে ফোল্ডিং মডেলের জন্য অপেক্ষা বাড়লেও আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকেই নতুন প্রজন্মের এই স্মার্টফোন বিশ্ববাজারে যাত্রা শুরু করতে পারে।
সূত্র: ফোর্বস