Image description

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, ম্যাচ, ইভেন্ট ও সংবাদ সম্মেলন ছাড়া সাংবাদিকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না। নিরাপত্তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। 

বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা খেলোয়াড় বা ক্রিকেট সংগঠকদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হয়ে ওঠার রেকর্ড নেই। মোহামেডানের স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামানের মতে, দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল একের পর ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, পূর্বাচল স্টেডিয়াম থেকে মাটি চুরি, বিশ্বকাপে দল পাঠাতে ব্যর্থ হওয়াকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই বিসিবি মিডিয়াকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বলে দাবি মোহামেডানের কর্মকর্তা ও বিসিবির সাবেক পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার। তিনি বলেন, ‘তারা যে অপকর্ম করছে, সাংবাদিকদের সেটা প্রকাশ করতে দিতে চায় না। এই মুহূর্তে অনেক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বিসিবির বর্তমান কমিটি। ক্রিকেট ধ্বংস করতে যা খুশি, তাই করছে তারা। ফিক্সিংয়ের মতো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট কোন উচ্চতায় ছিল বর্তমান বোর্ডের কর্মকর্তারা, তা বুঝতে পারেনি। এ কারণে তারা একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। এদের শাস্তির আওতায় আনতেই হবে। এই দেশের আদালতে তাদের বিচার হবে।’

বিসিবির সাবেক পরিচালক ফাহিম সিনহা ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে বিস্মিত। তাঁর মতে, ‘নিরাপত্তা কারণ কেন হবে একটি কমপ্লেক্সের ভেতরে। তারা ভিড় কমাতে চাইলে তিন সংগঠনের সঙ্গে আলাপ করতে পারত। স্টেডিয়ামে অবস্থানের সময় কমিয়ে আনতে পারত। এভাবে নির্দিষ্ট ইভেন্ট ছাড়া প্রবেশাধিকারে বাধা দেওয়া ঠিক হচ্ছে না।’ 

বিসিবির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবুর দাবি ক্রিকেটে চরম স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা বোর্ড অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন স্বৈরাচার দেখিনি। তারা রীতিমতো মাস্তানি করছে। ফিক্সিং কেলেঙ্কারি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মিডিয়ার কাজের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে তারা।’