Image description

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে পারদ চড়ছে দেশের ক্রিকেটে। ইতোমধ্যে বিসিবি নিশ্চিত করেছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা দল পাঠাবে না ভারতে। আইসিসির কাছে নিরপেক্ষ ভেন্যুও দাবি করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ওই দাবি মেনে নিতে পারে আইসিসি।

আইপিএলের ফ্র‌্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিসিবির দাবি, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু পরিবর্তনের কথা আইসিসিকে জানায় বিসিবি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই অনুরোধের পর আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের নেতৃত্বে নতুন সূচি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তবে সেই সূচিতে কোন দেশে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচ খেলবে, তা জানানো হয়নি।

মূল সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায়। ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নির্ধারিত ছিল। এছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই যখন আইপিএলের আসন্ন আসর থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় তখন ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি ওঠায় বিসিবি। আইপিএল সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি আরও জটিল হয় অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর।

তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও দেশের প্রতি কোনো অপমান আমরা মেনে নেব না। দাসত্বের দিন শেষ।’ সরকারি পর্যায় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার পর বিসিবি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি জরুরি বৈঠক করে। এসব আলোচনার পরই ভারতে দল না পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড।

বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে বোর্ড গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল ভারতে সফর করবে না।

এই পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো ‘হাইব্রিড মডেল’-এ টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।