টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসন্ন আসর শুরুর আগেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জটিলতা এখন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেও প্রভাব ফেলছে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচই ভারতে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির চাওয়া তাদের ম্যাচগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায়। এই দাবি আইসিসির কাছেও আনুষ্ঠানিক জানিয়েছে বিসিবি। এবার আইসিসির সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব। যদিও এই পরিস্থিতিতে তিনটি ভিন্ন পথও দেখছেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
প্রথমত, আইসিসি চাইলেই বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করা যেতে পারে। এতে টুর্নামেন্ট কাঠামোও অপরিবর্তিত থাকবে এবং সূচিতেও বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। সবমিলিয়ে পুরো বিতর্কটি কেবল লজিস্টিক সীমার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, আইসিসি যদি ভেন্যু পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানায় এবং বাংলাদেশও ভারতে খেলতে না যায়, তবে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচগুলো প্রতিপক্ষদের অনুকূলে অ্যাওয়ার্ড হতে পারে।
তবে সবচেয়ে চরম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যদি পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ায়, তবে আইসিসির সামনে বড় সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ফরফিট হিসেবে গণ্য করা হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে সিদ্ধান্তও নিতে হবে আইসিসিকেই।
এদিকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিকল্প দল বাছাইয়ের জন্য আইসিসির কোনো স্বয়ংক্রিয় রিজার্ভ তালিকা নেই, ফলে প্রতিস্থাপন সম্পূর্ণই আইসিসির সিদ্ধান্তনির্ভর। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ড আলোচনায় থাকলেও ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে নেদারল্যান্ডস ও ইতালি সরাসরি যোগ্যতা পাওয়ায় যোগ্যতার প্রশ্নে জার্সিও সামনে আসছে। এক্ষেত্রে পুরো বিষয়টিই আইসিসির শাসনব্যবস্থার বড় পরীক্ষা। আপাতত বাংলাদেশ ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছে, এখন সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে।