Image description

এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে ফেলার পরও ম্যাচটা নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ১৩ বলের মধ্যেই ৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে পড়ে মহাবিপদে। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে না পেরে ১০২ রানেই গুটিয়ে গেল লিটন দাসের দল। ৬৩ রানের বড় হারে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদকও জেতা হলো না বাংলাদেশের।


শনিবার নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে।

লক্ষ্যটা কঠিন ছিল, তবে অসম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশের রান তাড়া শুরু হতেই ম্যাচ কার্যত একপেশে হয়ে যায়।
প্রথম ওভারের শেষ বলে নুয়ান থুশারার শিকার হন সাইফ হাসান। ছয় বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি তিনি। পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে থারিন্দু রাত্নায়েকের বলে ফিরলেন তানজিদ হাসানও, তার নামের পাশেও শূন্য।

আরও বড় ধাক্কাটা আসে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে।

অধিনায়ক লিটন দাসকে বোল্ড করেন থুশারা। তিনিও রানের খাতা খুলতে পারেননি।

বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ রানে ৩ উইকেট।

তাওহিদ হৃদয় কিছুটা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন। ৬ বলে ২ চারে করেন ১১ রান। তবে ১৮ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে তার বিদায়ের পর চাপ আরও বাড়ে।

পারভেজ হোসেন ইমন ও ইয়াসির আলী কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ইমন ২৬ বলে ২২ এবং ইয়াসির ১৬ বলে ২১ রান করেন। কিন্তু দুজনের কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি।

এরপর ৫০ রানে পরপর দুই বলে ইমন ও মেহেদী হাসানের বিদায়ে বাংলাদেশের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। মেহেদী প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরেন।

রিশাদ হোসেন ৫ বলে ১০ রানের ছোট ঝড় তুললেও তা ছিল সাময়িক। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৬৭।

শেষদিকে নাসুম আহমেদই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ২৮ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেন ২৬ রান। আলিস আল ইসলাম করেন ৪, মোস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকেন ৩ রানে। ১৭.৩ ওভারে নাসুম আউট হলে ১০২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

শ্রীলঙ্কার হয়ে থুশারা, রাত্নায়েকে, বিজয়কান্ত ভিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান নেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্তভাবে। ৩.৫ ওভারের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার চার ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তারা। স্কোর ছিল ২১/৪।

সেখান থেকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগে ও রাত্নায়েকে। পঞ্চম উইকেট পতনের পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন রাত্নায়েকে। ৩২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় খেলেন ৬৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। আরাচ্চিগে করেন ৩৭ বলে ৩৩।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৯৩ রান। সেই জুটিই শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।

বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। সাইফ হাসানও দুটি উইকেট পান। মোস্তাফিজের শিকার দুটি হলেও ৩ ওভারে দেন ৪৩ রান। অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।

তবে বোলিংয়ে ২২ রান অতিরিক্ত দেওয়াও বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে। এর মধ্যে ওয়াইডই ছিল ১৭টি।

শেষ পর্যন্ত সেই ১৬৫ রানই বাংলাদেশের জন্য হয়ে ওঠে অনেক বড় লক্ষ্য। ব্যাটিংয়ের শুরুতেই ভেঙে পড়া দলটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে পদক ছাড়াই শেষ হলো বাংলাদেশের অভিযান।

শীর্ষনিউজ