Image description

ব্রোঞ্জ পদক জিততে ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। একে একে সাজঘরে ফিরেছেন সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস—তিনজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫০ রান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারই ব্যর্থ হয়েছেন। সাইফ হাসানকে ০ রানে নুয়ান থুশারা, তানজিদ হাসানকে ০ রানে থারিন্দু রাত্নায়েকে এবং লিটন দাসকে ০ রানে থুশারা সাজঘরে ফেরান। ফলে মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ও তাওহীদ হৃদয় মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ১ রানে থেমে যান হৃদয়। তাকে ফেরান থারিন্দু রাত্নায়েকে। ফলে ৫ উইকেট হারিয়ে আরও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পারভেজ হোসেন ইমন ২৪ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত আছেন। তার সঙ্গে ক্রিজে আছেন ইয়াসির আলী। তিনি ৮ বলে ১৪ রান করেছেন।

এর আগে নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। শুরুটা অবশ্য মোটেও ভালো ছিল না তাদের। মাত্র ২১ রানেই ৪ উইকেট হারায় দলটি।

তৃতীয় ওভারে সিনেথ জয়াবর্ধনে ও লাসিথ ক্রুসপুলেকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেন শেখ মেহেদী হাসান। পরের ওভারে নুয়ানিদু ফার্নান্ডোকে বোল্ড করেন অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম। এরপর রানআউট হন সোহান ডি লিভেরা। ৩ দশমিক ৫ ওভারে ২১ রানেই ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

এরপর সাহান আরাচ্চিগে ও আশেন বান্দারা জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ১৮ রানে বান্দারাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রিশাদ হোসেন। ১০ দশমিক ৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৫৪ রান।

সেখান থেকে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন থারিন্দু রাত্নায়েকে। অধিনায়ক সাহান আরাচ্চিগেকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই ব্যাটার।

শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৫ রান করেন রাত্নায়েকে। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৩ দশমিক ১২। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি দেন মোস্তাফিজুর রহমান। একই ওভারে দুশান হেমান্থাকেও আউট করেন তিনি।

শেষ ওভারে সাহান আরাচ্চিগে ও বিজয়কান্ত ভিয়াসকান্তকে ফেরান সাইফ হাসান। শেষ পাঁচ ওভারে ৬১ রান তুলে শ্রীলঙ্কা ১৬৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম ১৮ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। সাইফ হাসান ২৮ রান ও মোস্তাফিজুর রহমান ৪৩ রান দিয়ে ২টি করে উইকেট নেন। রিশাদ হোসেন নেন একটি উইকেট।

তবে বাংলাদেশের বোলিংয়ে অতিরিক্ত রান বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে অতিরিক্ত থেকে আসে ২২ রান, যার মধ্যে ১৭ রানই ছিল ওয়াইড।

ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ১৬৫ রান টপকে জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৬৬ রান। কিন্তু লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার শূন্য রানে ফেরায় এখন কঠিন চাপে রয়েছে বাংলাদেশ।