এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। ১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্য দিয়েও পাকিস্তানকে থামাতে পারেনি লিটন দাসের দল। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারে ৪১ রান দেওয়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তবে দলের সেরা পেসারের এমন দিনের জন্য আক্ষেপ থাকলেও তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে নারাজ অধিনায়ক লিটন।
ম্যাচ শেষে মুস্তাফিজের দুই ওভারে ৪১ রান খরচের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে লিটন বলেন, ‘ও আমাদের টিমের বেস্ট বোলার অনেক বছর ধরে। ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। আমার কাছে মনে হয়, তার জন্য আজকের দিনটা খুব একটা সুইটেবল ছিল না।’
ম্যাচ কোথায় হেরেছেন? এমন প্রশ্নে লিটনের চোখে মূল জায়গা ছিল মাঝের ওভারগুলোর বোলিং। তার ভাষায়, ‘মিডল ওভারে বোলিংটা যদি আরেকটু ভালো করতে পারতাম, যদি ওই ওভার বাউন্ডারিগুলো কম খেতাম, তাহলে চান্স বেশি থাকত।’
উইকেট ও প্রস্তুতির ঘাটতিকেও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন লিটন। টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা এবং কয়েক দিন মাঠে অনুশীলন বা ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়ায় শুরুতে উইকেটের আচরণ বুঝতে পারেননি তারা। লিটন বলেন, ‘আইডিয়া ছাড়া আমরা ক্রিকেট খেলেছি ফার্স্ট কয়েকটা ওভারে। দেন আস্তে আস্তে ব্যাটসম্যানরা আইডিয়া পেয়েছে।’
শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান তাওহিদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে তার জুটির প্রশংসা করে লিটন বলেন, ‘ক্রেডিট গোজ টু হৃদয় যে ও আমাদের টিমকে কামব্যাক করিয়েছে। মোসাদ্দেক এবং হৃদয়ের পার্টনারশিপটা খুবই ভালো ছিল।’
মুস্তাফিজের বদলে স্পিনার ব্যবহার করা যেত কি না?এমন প্রশ্নে লিটনের জবাব ছিল আরও সরাসরি, ‘আজকে মোস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না।’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি।’
ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশাও লুকাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘দেশ ছাড়ার সময় বলেছিলাম যে আমরা ফাইনাল খেলতে চাই। ওই জায়গাটা আমরা যেতে পারিনি,’ বলেন লিটন।
তবে ২০২৬ এশিয়ান গেমসে সোনার পদক না পাওয়াকে আদর্শ মনে করেন না তিনি। লিটনের স্পষ্ট কথা, ‘আমাদের অবশ্যই গোল্ড পেতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করেছি, বাট চেষ্টা তো করেই যাব।’ এখন বাংলাদেশের সামনে ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ। লিটনের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘ক্রিকেট তো খেলি, চেষ্টা করি।’