আসিয়ান কাপে হঠাৎ করেই সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে থমাস ডুলির দল বুজেছে বাস্তবতাও। বৃহস্পতিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া।
বাংলাদেশের ‘পোস্টার বয়’ হামজা চৌধুরী স্বাগতিক দর্শকদের সামনে ইন্দোনেশিয়ার মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে রীতিমতো। ‘ফিফা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামজা বললেন,‘আমি এই ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি। আমি জানি সেখানে অনেক দর্শক থাকবে, যা দল হিসেবে আমাদের জন্য আরও একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হবে। ইন্দোনেশিয়া বেশ শক্তিশালী দল। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে তাদের অনেক খেলোয়াড় খেলছে। তাই এটি আমাদের জন্য আরেকটি কঠিন পরীক্ষা। তবে আমরা তো মূলত এই কারণেই এখানে এসেছি—যেন আমাদের চেয়ে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে পারি।’
বাংলাদেশেরি জার্সিতে হামজা চৌধুরী খেলছেন প্রায় দেড় বছল ধরে। এই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে বললেন,‘ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই এই সময়ে ভালো-খারাপ নানা মুহূর্ত ছিল। দুর্ভাগ্যবশত, ভালো মুহূর্তের চেয়ে কঠিন মুহূর্তই হয়তো বেশি এসেছে, তবে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি এবং আরও ভালো কিছুর দিকে এগোচ্ছি।’
হামজা চৌধুরীর মতে, আসিয়ান কাপের মতো টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ। মালয়েশিয়া ম্যাচের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া খুব ভালো দল, আর আমার মনে হয় ওই ম্যাচে আমাদের শুরুটা খুব ধীরগতির ছিল, যা তাদের মতো দলের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন করে তুলেছিল।’

ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ থেকে অনেক এগিয়ে মালয়েশিয়া। তবে হামজা চৌধুরী মনে করেন, মাঠের খেলায় সেই ব্যবধান সব সময় স্পষ্ট বোঝা যায়নি,‘আমাদের জন্য এই স্তরে এসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। র্যাংকিংয়ে তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে, কিন্তু মাঠের কিছু নির্দিষ্ট মুহূর্ত দেখলে আপনি সেই পার্থক্যটা টের পাবেন না। তাই নিশ্চয়ই আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।’
শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই খেলোয়াড় আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় আমরা শুধু দলের মূল দুটি বা তিনটি ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছি, এবং আশা করি দ্রুতই আমরা সবকিছু সঠিকভাবে গুছিয়ে নিতে পারব।’
আগামী নভেম্বরে সাফ টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টে শিরোপায় চোখ হামজার,‘নভেম্বরে ঘরের মাঠে আমাদের একটি বড় টুর্নামেন্ট আছে। ইনশাল্লাহ, আমরা সেটিকে লক্ষ্য করেই নিজেদের গড়ে তুলছি এবং আশা করি সেখানে কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারব।’
ইন্দোনেশিয়া প্রথমবার খেলতে আসার অভিজ্ঞতা নিয়ে হামজা জানালেন,‘আমার সত্যিই খুব ভালো লেগেছে! ইন্দোনেশিয়ায় এটিই আমার প্রথম ভ্রমণ। আমার অনেক বন্ধু ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য আগে এখানে এসেছিলেন এবং তারা সবাই দেশটির প্রশংসা করেছেন। তাই এখানে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এখানকার মানুষ খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া আমার জন্য কিছুটা গরম, তবে সব মিলিয়ে আমি বেশ উপভোগ করেছি। আশা করি পরবর্তীতে আবার এসে ইন্দোনেশিয়ার অন্য এলাকাগুলোও ঘুরে দেখতে পারব।’